যুক্তরাজ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছে এমন ৭টি বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে কয়েকশ কোটি ডলারের করফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরেও কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
যুক্তরাজ্যের উচ্চ কর্পোরেট ট্যাক্স বিড়ম্বনা এখন আর অজানা কিছু নয়। উচ্চ কর এড়াতে এরই মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান অন্য দেশে তাদের কার্যক্রম স্থানান্তর করতেও বাধ্য হয়েছে। শুধুমাত্র এ কারণেই দেশটিতে ব্যবসা করছে এমন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অহরহই উঠছে কর ফাঁকির অভিযোগ।
এবারে এ তালিকায় নাম লিখালো জেপি মরগ্যান, ব্যাংক অব আমেরিকা, ডয়েচ ব্যাংক, নমোরা হোল্ডিং, মরগ্যান স্ট্যানলি, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং ইউবিএস এজি। প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের পরও ইইউ’র করনীতির দুর্বলতার সুযোগে ২০১৪’তে বিশাল অঙ্কের কর ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
রয়টার্সের সংবাদদাতা টম বারগেইন বলেন, ‘২০১৪তে প্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যেখানে তাদের মুনাফা হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অথচ তারা কর দিয়েছে মাত্র ৩১ মিলিয়ন ডলার। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেউ কেউ বলছে ওই বছর লন্ডনে তাদের প্রত্যাশিত মুনাফা হয়নি। আবার অনেকেরই দাবি আগের বছরের লোকসানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই তারা কর ফাঁকি দিয়েছে।’
ব্যাংকগুলোর সাড়া না পাওয়ায় ২০১৪’র মতো ২০১৫’তেও যুক্তরাজ্যের কর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই কর্পোরেট কর প্রদানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ব্রিটিশ কর কর্তৃপক্ষ। আর সে লক্ষ্যেই একটি বৈষম্যহীন করনীতি প্রণয়নে কাজ করছে তারা।
আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ বেন কুমার বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের কর প্রথা অন্যদের তুলনায় বেশ জটিল। আমরা চাই এমন কর হার নির্ধারণ করতে যেন প্রতিষ্ঠানগুলো কম হোক আর বেশি হোক অন্তত কর প্রদানে উৎসাহিত হয়। দফায় দফায় বড় অঙ্কের জরিমানা গুনেও প্রতিষ্ঠানগুলো এ অভ্যাস থেকে বের হতে পারছে না। কর ফাঁকির অভিযোগে স্টার বাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মত গ্রাহকরা যদি এসব ব্যাংক থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে হয়তো এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।’
বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বদৌলতে যুক্তরাজ্যে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর শুধুমাত্র এ কারণেই কর ফাঁকি দূর করতে কঠোর হতে চাইলেও তা পারছে না দেশটির সরকার।





















