এসএম জাকারিয়া (মীরসরাই, চট্টগ্রাম)
সারা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ চাই সে শিশু হোক, যুবক হোক বা বৃদ্ধ হোক, নারী হোক বা পুরুষ হোক সকলেরই স্বাধীন মত প্রকাশ এবং সঠিক আইনী সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সহ সারা বিশে^ আজ চরমভাবে ভুলণ্ঠিত হচ্ছে মানবাধিকার। যেদিকেই তাকাই শুধু চোখে পড়ে মানবাধিকার লঙ্গনের দৃশ্য এবং শুধু শুনতে পাই আর্ত মানবতার চিৎকার। এমতাবস্থায় আমরা যারা মানবাধিকার কর্মী বা মানবাতাবাদী বলে নিজেদেরকে পরিচয় দিই তাদের সকলেরই উচিত প্রতিনিয়ত চলা-ফেরায় নিজের চোখ, কান এবং বিবেকের দরজা খোলা রেখে এসব মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হওয়া। শুধু মানবাধিকারের কাজ করি এই বলে বেড়ালে চলবেনা, বরং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ থেকে আরম্ভ করে রাষ্ট্রকে ছাপিয়ে বিশ^ ব্যাপি সর্বত্র মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মানুষের যে সচেতন হওয়া প্রয়োজন তা বোঝাতে হবে। প্রথমে নিজেকে শোধরাতে হবে, পরবর্তীতে মানুষ-মানুষ, পরিবার-পরিবার এভাবেই মানুষের মাঝে একে অপরের উপরে প্রাধান্য বিস্তারের যে প্রবণতা তা যেন ভুলে মিলে মিশে কাজ করার প্রবণতা চালু হয় সে বিষয়ে কাজ করতে হবে। সর্বত্রই নিজের কাজের প্রতি আত্মবিশ^াস রেখে বিভিন্ন বাঁধা বিপত্তিকে উপক্ষো করে আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। সময়ে দেখা যাবে প্রশাসন সহ সবাই প্রাণপণ সহযোগিতা করছে আবার ভিন্ন চিত্র হলো অনেক ক্ষমতাধরেরা তাদের ক্ষমতা বলে আমাদের কাজকে বাধা দিতে চেষ্টা করবে। কিন্তু আমাদেরকে পরিবেশ পারিপাশির্^কতা মাথায় রেখে মানবতার সেবায় সামনে আগাতে হবে। আমাদের কোনও কাজ যেন কখনই মানবতার সেবার নামে মানবতা বিরোধী না হয়ে যায়। আমাদের কাজগুলো যেন কখনো এমন না হয় যে, সেখান থেকে নিজেদের পকেট ভারী করার চিন্তা করব। গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (এনপিএস) চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটি গঠন ও অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তারা বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং সভাপতি তার বক্তব্যে দ্যর্থহীন কন্ঠে বলেন আমার কমিটির কেউ যদি কোন প্রকার এমন কাজ করছে বলে শুনি যাতে এনপিএস অথবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের মান ক্ষুন্ন হবে সাথে সাথে আমি তার বিরুদ্ধে যত প্রকারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন নেব। অন্যদিকে কাজ করতে গিয়ে আমার কমিটির প্রতিটি সদস্যের যেখানে-যেভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন আমি আমার সর্বোচ্ছ চেষ্টা করবো তাদেরকে সেভাবে সহযোগিতা করতে। বক্তাদের কথায় উঠে আসে মানবাধিকারকে মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্তর্ভূক্তি করানোর কথা। তারা বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৭টি গণমাধ্যম এবং প্রায় ৩৭টি নিবন্ধিত মানবাধিকার সংস্থ্যা রয়েছে। আমাদের সকলেরই উচিৎ মানবাধিকারকে মৌলিক অধিকারের মধ্যে জায়গা করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার বরাবর চেষ্টা করা।
গত ২৬ জানুয়ারী ২০১৮ইং (শুক্রবার) বিকাল ৪:৩০ঘটিকায় চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেশন রোডস্থ হোটেল ফেভার ইন এ সংগঠিত বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (এনপিএস) এর মহানগর কমিটির অভিষেক ও কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনপিএস চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ইকবাল। সমাজ সেবক ও মানবাধিকার কর্মী কায়সার তালুকদারের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে এনপিএস সদস্য মাওঃ আল আমিন এর কুরআন তিলাওয়াত ও বিশিষ্ঠ সংগীত শিল্পী মোঃ হারুন এর জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আরাম্ভ হয়। অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উক্ত অনুষ্ঠানের মূল সমন্বয়কারী মোহাম্মদ হোসেন মিন্টু (সাংবাদিক ও এনপিএস সাধারণ সম্পাদক), মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনপিএস সহযোগিত এবং পেশাজীবী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রঃ আবুল কালাম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনপিএস চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির শিক্ষা ও গবেষনা সম্পাদক এবং দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এর বিশেষ প্রতিনিধি এস এম জাকারিয়া, পেশাজীবী লীগের চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল ফরিদি, দক্ষিন জেলা পেশাজীবী লীগ সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী কফিল উদ্দিন প্রমুখ সহ নের্তৃবৃন্দ।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠনের নেতা-নেত্রী ও সদস্যবৃন্দ সহ এনপিএস এর সকল স্তরের সম্পাদক ও সদস্যবৃন্দ। উক্ত অভিষেক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু সদস্যকে পরিচয়পত্র দিয়ে গ্রহণ করা হয়





















