ইতিহাসের এক পর্যায়ে যখন এ উপ-মহাদেশে বহুবিদ বাতিলের নানামুখী অশুভ পদচারণা চলছিল, সরলপ্রাণ মানুষ ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তির অতল সমুদ্রে তলিয়ে যা”িছল ঠিক তখনই যে মহান ইমাম তাঁর অসাধারণ জ্ঞান এবং অধম্য ঈমানী ও বেলায়তী শক্তি প্রয়োগ করে উপ-মহাদেশে সফল ত্রাণ কর্তার ভূমিকায় অবর্তীণ হন। তিনি হলেন ইমামে আহ্লে সুন্নাত, রাসূলে পাকের মুজিজা সমূহের অন্যতম একটি মুজিজা, জ্ঞানের চলন্ত বিশ্বকোষ, শায়খুল
ইসলাম ওয়াল মুসলেমীন, শতাব্দীর মহান সংস্কারক, আ’লা হযরত শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন বেরেলভী রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু। ১০ শাওয়াল ১২৭২ হিজরী মোতাবেক ১৪ জুন ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে বেরেলী শরীফের জহিরা মহল্লায় সম্ভ্রান্ত বংশে শুভ জন্মগ্রহণ তাঁর। আ’লা হযরত কেবলা নিজেই প্রশিদ্ধ আবজাদ হিসাব অনুযায়ী কোরআনে কারীমের নিম্নোক্ত আয়াত তাঁর জন্মসাল জ্ঞাপক বলে বর্ণনা করেছেন। “উলাইকা কাতাবা ফি কুলুবিহিমুল ইমানা ওয়া আইয়াদাহুম বিরুহীম মিনহু” অর্থাৎ এরা হ”েছ ঐ সব লোক, যাদের অন্তর-সমূহে আল্লাহ ঈমান অঙ্কিত করে দিয়েছেন এবং তাঁর নিকট থেকে জিব্রাঈল আমিন দ্বারা তাদের সাহায্য করেছেন। (সূরা মুজাদ্বালাহ, আয়াত নং-২২)।
উক্ত আয়াতে কারীমার মর্মার্থ বাস্তবে আ’লা হযরতের জীবনে প্রতিফলিতও হয়েছে। তাইতো তিনি বলেছেন, হৃদয়কে যদি দু’ভাগ করা হয় তাহলে একভাগে থাকবে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ অপর ভাগে থাকবে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। আ’লা হযরত (রাদিআল্লাহ্ তায়ালা আনহু)। বিসমিল্লাহ্ পাঠ বা প্রাথমিক শিক্ষা মাত্র চার বছর বয়সে সম্পন্ন করেছিলেন। কেউ কেউ বলেন তিনি তিন বৎসর বয়সে কুরআন শরীফের নাজেরা শেষ করেছিলেন। বা”চারা সাধারণত শিক্ষার প্রতি তেমন মনযোগী হয় না যতটুকু খেলাধূলার প্রতি হয়। আ’লা হযরত ছিলেন এর ব্যতিক্রম। তিনি পড়ালেখার প্রতিই বেশি আগ্রহী ছিলেন। এমনকি ছুটির দিন জুমাবারেও তিনি পড়ার জন্য ভীষণ আগ্রহ দেখাতেন। নিম্নোক্ত ঘটনা থেকে পড়ালেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ ও পা-িত্যের গভীরতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাঁর শিক্ষক মহোদয় নিয়ম মোতাবেক বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ানোর পর আলিফ, বা, তা, সা যেভাবে পড়ানো হয় সেভাবে পড়ালেন, যখন লাম-আলিফ পর্যন্ত আসল তখন তিনি আর উ”চারণ করলেন না। উস্তাদজী বললেন, বলো লাম-আলিফ। এবারে আ’লা হযরত আরজ করলেন, হুযুর এ দু’টো বর্ণ তো আগে পড়েছি, দ্বিতীয়বার পড়বো কেন? ঐ সময় আ’লা হযরতের দাদাজান মাওলানা শাহ্ রেযা আলী খাঁন সাহেব বললেন, বৎস! ওস্তাদজীর কথা অনুসরণ কর। তিনি দাদাজানের এ আদেশ পেয়ে বিচলিত হলেন এবং দাদাজানের দিকে তাকালেন। দাদাজানের সবকিছু বুঝতে আর দেরি হল না। তিনি মনে মনে ভাবলেন, বা”চার সন্দেহ হ”েছ যে, এগুলোতো একক হরফের বর্ণনা। এখানে যুগল হরফের আলোচনা কিভাবে আসল? অথচ এ হরফ দু’টো প”থক প”থকভাবে পূর্বে পড়েছি। যদিও বা”চার বয়সের দিক থেকে এগুড় রহস্য প্রকাশ করা অনুপযোগী। যুগ শ্রেষ্ঠ আল্লামা শ্রদ্ধেয় দাদাজান বুঝে নিলেন, এ ছেলে ভবিষ্যতে কিছু হতে যা”েছ। তাই দাদাজান এর গুড় রহস্য প্রকাশ করা উপযুক্ত মনে করে উত্তর দিলেন, প্রিয় বৎস! তোমার প্রশ্ন যথার্থ। তুমি প্রথমে যে আলিফ পড়েছিলে, প্রকৃত পক্ষে তা ছিল হামযা, আর এটাই হলো আলিফ। যেহেতু আলিফ সর্বদা সাকিন হয়ে তাকে এবং তা দ্বারা কোন শব্দ আরম্ভ করা যায় না। সেহেতু এখানে লাম এর সাথে আলিফকে সংযুক্ত করে এর উ”চারণ দেখানো হয়েছে। এটা শুনে আ’লা হযরত দাদাজানকে দ্বিতীয় প্রশ্ন করলেন, যদি আলিফকে উ”চারণ করার জন্য অন্য অক্ষরের সাহায্য নিতে হয় তাহলে যেকোন একটি হরফের সাথে মিলালেতো হয়ে যেত, এত দূরে এসে লামের সাথে সংযুক্ত করার দরকার কী? প্রশ্নটি শুনে দাদাজান কেবলা স্নেহভরে তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং আন্তরিকভাবে দু’আ করলেন। তিনি বললেন, প্রিয় বৎস! আলিফ ও লামের মাঝে দ”শ্যত ও ভিতর গত উভয় দিক দিয়ে পারস্পরিক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আলিফ শব্দের মধ্যবর্তী বর্ণ হলো লাম, আর লাম শব্দের মধ্যবর্তী বর্ন হল আলিফ। মধ্যবর্তী বর্ন মিল থাকার বিশেষত্বটি আলিফ ও লাম ছাড়া অন্য কোন বর্ণের মধ্যে নেই বিধায় এতদূর এসে লামের সাথে আলিফকে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। দাদাজান কেবলা যদিও লাম ও আলিফকে যুক্ত করার কারণ বর্ণনা করেছেন কিš’ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এ বা”চা একদিন যুগশ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন হবে। আ’লা হযরত নিজেই বর্ণনা করেছেন, “আমার সম্মানিত ওস্তাদ যিনি আমাকে কুরআন ও প্রাথমিক কিতাব পড়াতেন, আমি দু’একবার দেখে কিতাব বন্ধ করে দিতাম। আবার যখন ছবক শুনতেন তখন আমি হুবহু ছবক আদায় করতাম”। প্রতিদিন ছবককে আদায়ের এ অব¯’া দেখে ওস্তাদজি খুব আশ্চর্য হয়ে আমাকে বললেন, তুমি কি প্রকৃত পক্ষে মানুষ না জ্বীন? আমার পড়াতে দেরী লাগে কিš’ তোমার মুখস্ত করতে দেরি লাগে না। উত্তরে আমি বললাম, হুযুর! আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য শোকর এজন্য যে, তিনি আমাকে মানুষ হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। তিনি মক্তবের হুযুর থেকে কুরআনে পাক ও প্রাথমিক উর্দু পড়েছেন। এরপর নাহু, ছরফ, উর্দু, ফারসি ও প্রাথমিক আরবী শিক্ষা হযরত মাওলানা মির্জা গোলাম কাদের বেগ থেকে অর্জন করেছেন। শ্রদ্ধেয় পিতা মাওলানা শাহ্ নক্বী আলী খান (১৮৭৯ খ”:), বাহ্রুল উলুম মাওলানা আবদুল আলী সাহেব (১৮৮৫ খ”:) আপন মুরশীদ কেবলা শাহ্ আলে রাসূল মারেহারভী (১৮৭৮ খ”:), তাজুল ওলামা শাহ্ আবুল হোসাইন আহমদ নূরী মিয়া মারহেরভী (১৯০৬খ”:), রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহুম-এ ছয়জন সম্মানিত ওস্তাদ হতে আ’লা হযরত কেবলা শিক্ষা লাভ করেন। তিনি মাত্র ছয় বছর বয়সে রবিউল আওয়াল শরীফের মাসে বিশাল জনসমুদ্রের সামনে “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” এ বিষয়ের উপর দু’ঘন্টা ব্যাপী প্রথমবারের মত নূরানী তাকরীর করেন। আট বছর বয়সে হযরত খাজা নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার খলিফা আবু হাব্বান সিরাজ উদ্দীন ওসমান এর আরবী ব্যাকরণের উপর লিখিত প্রসিদ্ধ কিতাব হেদায়াতুন নাহুর আরবী ভাষায় ব্যাখাগ্রš’ রচনা করেন। এটাই তাঁর প্রথম রচিত কিতাব। উপরোক্ত বয়সে তিনি ফারায়েজের একটি মাসাআলা লিখে আলোড়ন স”ষ্টি করেন।
আ’লা হযরত কেবলা ১৪ শাবান, ১২৮৬ হিজরী মোতাবেক ১৩ বছর ১০ মাস, ৫ দিনে শেষ শিক্ষাবর্ষের সনদ লাভ করে দস্তারে ফজিলত অর্জন করেন। তিনি ছিলেন অসাধারণ স্মরণ শক্তির অধিকারী। এক ব্যক্তি আ’লা হযরতের খেদমতে ডাকযোগে চিঠি প্রেরণ করার সময় নামের আগে হাফেজ যুক্ত করে দেন। অতচ আ’লা হযরত ঐ সময় পর্যন্ত হাফেজ ছিলেন না। চিঠিখানা পেয়ে আ’লা হযরতের চোখে পানি এসে গেল। তখন তিনি এরশাদ ফরমালেন, আমি ভয় করছি যে, আমার হাশর যেন এসব মানুষের সাথে না হয় যাদের ব্যাপারে কুরআনে কারীমের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা বলেন-“যখন ঐ সব মানুষের পরিচয়ের ক্ষেত্রে এমন প্রশংসা করা হয় যা তার মধ্যে নেই তখন তারা নিজেদের এধরনের প্রশংসাকে পছন্দ করে”। জনৈক ব্যক্তি না জেনে আমার প্রশংসায় হাফেজ লিখেছেন। সুতরাং কুরআন হেফজ করা আমার জন্য জরুরী। এ ঘটনাটি সাবান মাসের ২৯ তারিখ হয়েছিল। আ’লা হযরত পরের দিন থেকে কুরআনে পাক হেফজ করা শুরু করে দিলেন। যার নির্ধারিত সময় ছিল ওযু করার পর থেকে জামায়াত কায়েম হওয়া পর্যন্ত। ফিকাহ্ শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ কিতাব বাহারে শরিয়াতের লেখক মাওলানা শাহ্ আমজাদ আলী রেজভী সাহেব কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতেন আর আ’লা হযরত তা শুনতেন এরপর জামাআত কায়েম হলে আ’লা হযরত কেবলা তারাবী নামাযে ইমামতির মাধ্যমে তা শুনাতেন। কখনো এক পাতা কখনো দেড় পাতা। প্রতিদিন এভাবে করে রমযানের ২৭ তারিখ পুরো কুরআনে পাক্ হেফজ করে ফেললেন। মাত্র এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তিনি হাফেজে কুরআন হয়ে গেলেন। শিক্ষা অর্জন সমাপ্ত হওয়ার পর আ’লা হযরত কেবলা ১২৯১ হিজরীতে ঊনিশ বছর বয়সে মোছাম্মৎ এরশাদ বেগম সাহেবা’র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর এ শাদী মুবারক মুসলিম জাহানের জন্য একটি শরয়ী নমুনা ছিল। যার মধ্যে আহ্কামে শরিয়াহ্ ও সুন্নাতে নববীর পরিপূর্ণ সন্নিবেশ ছিল। ১২৯৪ হিজরীর ৫ জমাদিউল উলা তারিখে দুপুর বেলা আ’লা হযরত কেবলা বিশ্রাম নি”িছলেন। কারণ দুপুর বেলা খাবার পর কায়লুলা করা বা কিছু সময় বিশ্রাম নেয়া প্রিয় নবীজী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার সুন্নাত। এ সুন্নাত পালন করা আ’লা হযরতের খান-দানের মধ্যে এখনো প্রচলন রয়েছে। বিশ্রামের মধ্যে আ’লা হযরতের একটু নিদ্রা এসে গেল। ঐ নিদ্রার মধ্যে তিনি তার শ্রদ্ধেয় দাদাজান মাওলানা রেযা আলী খান সাহেবকে স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি তাঁকে বায়াত হওয়ার জন্য ঈঙ্গিত করছেন। ঘটনার দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন পর তাজুল ফহুল মাওলানা আবদুল কাদের বাদায়ুনী বেরেলী শরীফে তাশরীফ আনলেন। আ’লা হযরত কেবলা, তাঁর শ্রদ্ধেয় আব্বাজান হযরত নক্বী আলী খান ও হযরত আবদুল কাদের বাদায়ুনী এ তিন ব্যক্তি মারেহেরা শরীফ তাশরীফ নিলেন। তাঁরা যখন আস্তানায়ে আলিয়া বারকাতি যায় উপ¯ি’ত হলেন তখন সাজ্জাদানশীন সৈয়্যদেনা শাহ আ’লে রাসূল মারহেরভীর সাথে আ’লা হযরত ও তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতার প্রথম সাক্ষাত হলো। তিনি আ’লা হযরতকে দেখে বলেছেন, আসুন! আসুন!! আমি তো কয়েকদিন ধরে আপনার অপেক্ষায় রয়েছি। অতঃপর আ’লা হযরত ও তাঁর পিতা মহোদয় তাঁর হাতে বায়াত হলেন। বায়াত হতে না হতেই মুর্শিদে বরহক সমস্ত সিলসিলার এজাজত দান করে খেলাফতের তাজ আ’লা হযরত কেবলার মাথায় বরকতময় হাত দিয়ে পড়িয়ে দিলেন। সাথে ছোট্ট একটি বক্স দান করলেন, যা অজিফার সিন্দুক নামে প্রসিদ্ধ ছিল। ঐ সময় যে সমস্ত মুরিদ ওখানে উপ¯ি’ত ছিলেন তাঁরা আরজ করলেন হুযুর এ বা”চাকে মুরিদ হওয়ার সাথে সাথেই সমস্ত সিলসিলার এযাজত ও খেলাফত দান করলেন। অথচ আমরা জানি আপনার এখানে খেলাফত পেতে হলে অনেক সাধনা করতে হয় কিš’ এ বা”চা কোন প্রকার সাধনা ছাড়াই সবকিছু পেয়ে গেল! এর হেকমতটা কী? মুরিদদের এ কথা শুনে তিনি উত্তরে বললেন, তোমরা আ’লা হযরত সম্বন্ধে কি জান? অন্যান্যরা এখানে এসে সাধনা করে খেলাফত পাওয়ার জন্য নিজেকে তৈরী করে কিš’ আ’লা হযরত সম্পূর্ণ তৈরী হয়ে এসেছেন। তাঁর কেবল নিসবতের প্রয়োজন ছিল। এখানে এসে তাও পুরা হয়ে গেল। এ কথা বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন, আর বললেন, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, হে আ’লে রাসূল তুমি দুনিয়া থেকে আমার জন্য কি নিয়ে এসেছ? আমি আ’লা হযরতকে দেখিয়ে বলব, হে খোদা আমি তোমার জন্য দুনিয়া থেকে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযাকে নিয়ে এসেছি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্তির পর আ’লা হযরত রাদ্বি আল্লাহু তায়ালা আনহু কিছুকাল শিক্ষাদানে লিপ্ত ছিলেন। অতঃপর ফতোয়া প্রণয়ন ও লেখালেখিতে তিনি সর্বদা ব্যস্ত থাকতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজেই লিখেছেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালা জন্য, “এ ফকিরের ১৩ বছর ১০ মাস ৫ দিন বয়সে শিক্ষা সমাপ্ত হয় এবং আমি দস্তারে ফজিলত লাভ করি। সেদিন থেকে আমার উপর নামায ফরজ হয় এবং শরীয়তের বিধানাবলীর পালনের প্রতি মনোযোগী হয়। এরপর কয়েক বছর ছাত্রদের পাঠদান করি”। তিনি ১৩২২ হিজরি মোতাবেক ১৯০৪ সালে মানযার-ই-ইসলাম নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ওখান থেকে হাজার হাজার ছাত্র বের হয়ে দ্বীন ইসলামের খেদমত অদ্যবদী বিশ্বব্যাপী আনজাম দিয়ে যা”েছন। আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁর আব্বাজান মাওলানা শাহ নক্কী আলী খান ও অন্যান্য ওস্তাদ হতে ২১টি বিষয়ের ওপর বিদ্যা অর্জণ করেন। খোদা প্রদত্ত আরও ৩৪ টি বিষয়ে তিনি পা-িত্য লাভ করেন কোন প্রকার শিক্ষক ব্যতীত। তিনি সর্বমোট ৫৫টি বিষয়ের ওপর বিভিন্ন ভাষায় দেড় সহস্রাধিক কিতাব রচনা করেছেন। তার মধ্যে ‘কানযুল ইমান’ (পবিত্র কুরআনের অনুবাদগ্রš’), ফাতাওয়ায়ে রযভীয়া, হেদায়েকে বখশিষ প্রভৃতি গ্রš’ পুরো মুসলিম বিশ্বকে আলোড়িত করেছে। আদর্শগতভাবে আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সালফে সালেহীন বা পূর্বসূরিদের অনুসারী ছিলেন। তিনি আপন যুগে রাজনীতি ও মাযহাবের ক্ষেত্রে বহুমুখী সংস্কারমূলক খেদমত আন যাম দিয়েছেন। তাঁর চিন্তা চেতনা ও দর্শন আপন-পর সকলের নিকট এতই সুস্পষ্ট যে, যা আলোচনা-পর্যালোচনার অবকাশ রাখে না। তিনি খোদা প্রদত্ত জ্ঞান ও কলম যুদ্ধের দ্বারা ধর্মদ্রোহীতা ও ধর্মবিমুখতার সকল শক্তি ও সব ধরনের অপচেষ্টাকে ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছেন। মূলত এ কারণে ওলামায়ে আরব আ’লা হযরতকে হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর মহান সংস্কারক বলে আখ্যায়িত করেছেন। পুরো মুসলিম মিল্লাত সেটা নির্দ্বিধায় মেনেও নিয়েছেন। ২৫ সফর ১৩৪০ হিজরী মোতাবেক ২৮ অক্টোবর ১৯২১ সাল জুমাবার ঠিক বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে (উক্ত সময়ে তিনি জন্মগ্রহণও করেছিলেন) যখন মুয়াজ্জিন জুমার আযান দি”েছন এবং হাইয়া আলাল ফালাহ (কল্যাণের দিকে এসো) পর্যন্ত পৌছলেন তখন আ’লা হযরত কেবলা কালিমায়ে তৈয়্যবা পরিপূর্ণ পড়লেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, তখন তাঁর চেহারা মুবারকের উপর এক”ছটা আলো পরিস্ফুটিত হলো। সাথে সাথে তিনি মহান আল্লাহ ও প্রিয় নবীজীর সান্নিধ্যে চলে গেলেন। ইন্তেকালের পর থেকে প্রতি বছর ভারতের বেরেলী শরীফ সহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ২৩,২৪ ও ২৫ সফর শতাব্দীর মহান এ সংস্কারকের স্মরণে ওরসে আ’লা হযরত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ মহান মনীষীর জীবনাদর্শ হোক সামনে চলার পাথেয় সবার।
























