প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যখন চলছে পুরো দুনিয়া তখন বসে নেই আমাদের খ্যাতিমান কন্ঠশিল্পরাও । তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে তালমিলিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সরব রয়েছেন দুই কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী রুনা লায়লা ও কনকচাঁপাও। ব্যস্ততা ও ব্যক্তি জীবনের নানা তথ্য শেয়ার করছেন তারা তাদের প্রিয় ফেসবুকে।
কিছুদিন আগে ভারতের গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। আড্ডার পর তারা অংশ নেন নৈশভোজে। বিদায়ের আগে রুনাকে একটি শাড়ি উপহার দিয়েছেন লতা। মুম্বাই থাকাকালে খবরটা ফেসবুকে জানিয়েছিলেন রুনা লায়লা।
ফেসবুকে তিনি আরো লিখেছিলেন, অভিনেতা আলমগীর আকারে ক্ষুদ্র চমৎকার একটি কোরআন শরীফ উপহার দিয়েছেন । ‘এগুলো আমার মন ছুঁয়ে গেছে। আমি খুব সম্মানিত।’
এমন শ্রেষ্ঠ অনুভুতি ছাড়াও মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে ‘সুলতান’ ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে সালমান খনের সঙ্গে দেখা করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এ গায়িকা । শুধু তাই নয়, দুই নাতির গান নিয়ে প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন স্বামী আলমগীরকে নিয়ে। মজার এ অনুভুতি ও ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। এমন মজার ও তথ্যবহুল বিষয় নিয়ে ফেসবুকে সরব সবসময় রুনা লায়লা।
রুনা লায়লার জন্ম ১৯৫২ সালে, ১৭ নভেম্বর। সিলেটে জন্ম হলেও তিনি বেড়ে ওঠেন লাহোরে। মাত্র সাড়ে ১২ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানি ছবি ‘জুগনু’র মাধ্যমে সংগীতের ভুবনে তার যাত্রা শুরু হয়। ওই ছবির ‘গুড়িয়াসি মুন্নি মেরি’ তার জীবনের প্রথম গাওয়া । বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজিসহ ১৮টি ভাষায় তার কণ্ঠে গান শোনা গেছে। এ পর্যন্ত ১৯টি ভাষায় তার গাওয়া গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। এই শিল্পী নিজেকে নিয়ে গেছেন গিনেজ বুকেও। নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সুরকার নিসার বাজমির সুরে একদিনে ১০টি করে তিন দিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান রুন লায়লা।
এদিকে কন্ঠশিল্পী কনকচাঁপাও সরব থাকেন ফেসবুকে । এই শিল্পীকে এত দিন সবাই কন্ঠশিল্পী হিসেবে জানতেন। এবার ভক্তদের মাঝে কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা চিত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায় কনকচাঁপা নিজেই এ তথ্য জানালেন।সম্প্রতি রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে তার আঁকা ছবি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দ্বিধার দোলাচল’ শিরোনামের একক চিত্র প্রদর্শনী। এমন এমন অসংখ্য নতুন তথ্যসহ নতুন নতুন গানের তথ্য শেয়ার করেন জনপ্রিয় এই গায়িকা। তিনি মনে করেন তথ্য আদান-প্রদানে সহজ মাধ্যম ফেসবুক। সময় পেলেই ফেসবুকে বসার চেষ্টা করি।
১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ সালে জন্ম রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপার। বাবা আজিজুল হক মোর্শেদের কাছেই প্রথম সংগীতের হাতেখড়ি। চলচ্চিত্রর আধুনিক গান, নজরুলসংগীত, লোকগীতিসহ প্রায় সব ধরনের গানে তিনি সমান পারদর্শী। একজন গায়িকা নন, বরং নিজেকে আপাদমস্তক ‘কণ্ঠশ্রমিক’ মনে করা এই গুণী শিল্পীর অনেক জনপ্রিয় গান সমৃদ্ধ করেছে বাংলা গানের ভান্ডারকে। বিশেষ করে চলচ্চিত্রের গানে তার কণ্ঠের অবদান অনস্বীকার্য। এ পর্যন্ত তিনি চলচ্চিত্রের তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন । দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নন্দিত হয়েছেন তিন প্রজন্মের কোটি ভক্তের ভালোবাসায়। আর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
























