পাহাড় জুড়ে উৎসবের আমেজ, শারদীয় দুর্গোৎসব পালনে প্রস্তুত খাগড়াছড়ি

ইউছুপ পাটওয়ারী (পার্বত্য জেলা প্রতিনিধি) :

আর্থনিউজ২৪: বর্ষার পরিক্রমায় আবার এলো শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর দিগন্ত জুড়ে কাশফুল জানান দিচ্ছে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গা পূজার আগমনী বার্তা। ভক্তদের জন্য শুভ্রতার পরশ নিয়ে মাতৃরূপে আসছেন দেবী দুর্গা। বাঙালির সার্বজনীন এ দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শাস্ত্র অনুযায়ী এ বছর দেবী দুর্গা আসছেন ঘোড়ায় চড়ে, আর প্রস্থান করবেন পালকি ঘুড়ে। তাই শারদীয় দুর্গোৎসব পালনে ব্যস্ত এখন খাগড়াছড়ির সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আসন্ন দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে ইতমধ্যেই পাহাড় জুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।

দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার আর মাত্র চার দিন বাকি। দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা, ইতমধ্যেই শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। রং-তুলির আচর সহ দৃষ্টি নন্দিত করা হচ্ছে প্রতিমাকে পোশাক আর অলংকার পড়িয়ে। তবে পূজার এই শেষ মুহূর্তে বসে নেই কারু শিল্পীরাও। প্রতিটি পূজা মন্ডপকে পূর্ণাঙ্গ শৈল্পিক রূপ দিতে কারু শিল্পীরা এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী লক্ষীনারায়ন মন্দির, খাগড়াছড়ির শান্তি নগর শ্রী শ্রী গীতা আশ্রম ও আনন্দ নগর ভুবনেশ্বরী কালী মন্দিরে গিয়ে কথা হয় মৃৎ শিল্পী বাবলু দে ও কারু শিল্পী কাজল দেবনাথ এবং শান্তু চক্রবর্তীর সাথে। দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে এখন নির্ঘুুম রাত কাটাচ্ছেন বলে তারা জানান। রাত-দিন জেগে প্রতিমা তৈরি ও প্যান্ডেল তৈরি ও কারু কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

খাগড়াছড়ি কেন্দ্রিয় শ্রী শ্রী লক্ষীনারায়ন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী দীলিপ চক্রবর্তী, শ্রীমতি বসুন্ধরা ত্রিপুরা, মিনা চক্রবর্তী ও রুনু চৌধুরী আর্থনিউজ২৪কে জানান, দুর্গা মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে পরিবারের পাশাপাশি দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করবেন তারা। বাঙালি জাতির সার্বজনীন দুর্গোৎসবকে দল মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তরুন কুমার ভট্টচার্য্য জানান, এ বছর খাগড়াছড়ি জেলা সদরে ১৪টি প্রতিমা পূজা, ১টি ঘট পূজা। মহালছড়ি উপজেলায়, ২টি,। পানছড়ি ৮টি প্রতিমা পূজা, ১টি ঘট পূজা। দীঘিনালায় ৯টি। মাটিরাঙ্গায় ৮টি। রামগড় ২টি। মানিকছড়ি ২টি ও লক্ষীছড়ি ২টি সহ ৪৪টি প্রতিমা পূজা এবং ৩টি ঘট পূজাসহ সর্বমোট ৪৭টি দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে পূজা মন্ডপগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গত ১২ অক্টোবর সকালে খাগড়াছড়ি নতুন পুলিশ লাইন হলরুমে জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপার মোঃ মজিদ আলী এর সভাপতিত্বে শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপন উপলক্ষে সদর উপজেলাসহ প্রতিটি উপজেলার দুর্গাপূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, মসজিদের ইমাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে আইনশৃংখলা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পৌর মেয়র মোঃ রফিকুল আলম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তরুন কুমার ভট্টচার্য্য, শ্রমিক নেতা এস.এম সফি প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন।        এসময় জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মজিদ আলী জানান, প্রতিটি পূজা মন্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এই ছাড়াও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে পুলিশের মোবাইল টিমও কাজ করবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, আগামী ১৯ অক্টোবর মহা ষষ্ঠী, ২০ অক্টোবর সপ্তমী, ২১ অক্টোবর অষ্টমী, ২২ অক্টোবর নবমী এবং একই দিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দেবী দুর্গার দশমী পূজা সমাপন করে মহা বিজয়া দশমীর মাধ্য[review]মে ভক্তরা দেবী মঙ্গল ধ্বনি দিয়ে দশভূজা মা দেবী দুর্গাকে বিদায় দিবেন। দেবী দূর্গা চলে যাবেন স্বামী গৃহে।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ