‘আমরা গুপ্তচর নই, সাংবাদিক- বনপা

‘বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ্যাসোসিয়েশান'(বনপা)এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত আইসিটি আইনের ৩২ ধারা বাতিলের দাবীতে মানববন্ধনে বনপা’র সভাপতি সুভাষ সাহা বলেন,‘আমরা গুপ্তচর নই, সাংবাদিক। মুক্তচিন্তার সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধক ৫৭ ধারা সরকার বাতিল করে আবার অন্য মোড়কে ৩২ ধারা সংযুক্ত করায় দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে সরকার। আমরাও বিশ্বাস করি ৩২ ধারার ফলে শুধুমাত্র দুর্নীতিবাজরাই উপকৃত হবেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করা হলে জনসাধারণ বা সরকারের কোন লাভ হবে না। একটি দুষ্ট চক্র পরিকল্পিতভাবে সরকারকে দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করতে সচেষ্ট। দুর্নীতির সঠিক তথ্য প্রকাশ করলে সাংবাদিকরা ৩২ ধারায় গুপ্তচরের দোষে সাজা ভোগ করবেন এধরনের আইন সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায় না। সরকারের আস্থাভাজন কিছু দালাল সাংবাদিক নেতাও নাকি এ ব্যাপারে সরকারকে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া যখন বইতে শুরু করেছে ঠিক এমুহূর্তে ৩২ ধারার মতো আরেকটি নিবর্তনমূলক আইন গণহারে চাপিয়ে দেয়া মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।’

উক্ত মানববন্ধনে বনপা’র মহাসচিব এ এইচ এম তারেক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার গত ২৯শে জানুয়ারী ২০১৮ইং তারিখ রোজ সোমবার মন্ত্রী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮” খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়। আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। প্রস্তাবিত আইনের “৩২ ধারায়” বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের গোপনীয় বা অতিগোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে গোপনে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর জন্য ১৪ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

এছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার ২৫, ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় বিলুপ্তি ঘোষনাকৃত আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার অনুরূপ বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে আমরাও ডিজিটাল আইন চাই। ডিজিটাল সাংবাদিকতার কন্ঠ রোধ করে এমন আইন চাই না। আমরা সারা বাংলাদেশের অনলাইন গণমাধমের অবিভাবক সংগঠন বনপা’র পক্ষ থেকে জোর দাবী জানাচ্ছি “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮” কালো ধারা ৩২ সহ ২৫, ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারা অবিলম্বে বাতিল করে এই আইন পাশ করা হোক। নাহলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অধিকার হরন হবে।

 

আমাদের দাবী বর্তমান সরকার অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য জাতীয় অনলাইন নীতিমালার খসড়া চুড়ান্ত করেছে, অবিলম্বে এই নীতিমালা জাতীয় সংসদে পাশ করা হোক এবং অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন দেওয়া হোক। নাহলে সারা দেশব্যাপী আরো কঠোর আন্দোলন করা হবে।

৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার ১১ টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এ ধরনের বিতর্কিত আইন সংসদে পাস না করার জোর দাবী জানান।
কবীর হোসেন লিঞ্জুর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন,বনপা’র সেক্রেটারি এএইচ এম তারেক চৌধুরী,শেখ ফয়েজ আহমেদ,জাহাঙ্গীর হোসেন,এস এ এম সাগর,আঃরাজ্জাক ভূঁইয়া আল মুরাদ,কাজী কবীর,জোহরা পারভিন,বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ