১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিচারপতিদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্যই নতুন আইন হচ্ছে: রিজভী

বিচারপতিরা যেন সরকারের ইচ্ছামতো কাজ করে সেজন্যই বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতা সংসদে হাতে নেয়ার নতুন এই আইন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, “ এই আইন কার্যকর হলে ন্যায়বিচার শিকেয় উঠবে। এই আইন পাশের মাধ্যমে সরকার বিচার ব্যবস্থাকে বিরোধী দল সহ গণমাধ্যম এবং গণতন্ত্রে স্বীকৃত সকল অধিকারকে আরো নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে সক্ষম হবে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি করেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে নিতে সম্প্রতি নতুন আইন পাশ করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে বিচারপতিদের অভিশংসন ও অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে এখন জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত হবে। বিচারপতিদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের ওপর নগ্ন আগ্রাসন করতেই এমন আইন করা হচ্ছে বলে মনে করে বিএনপি। এই আইন স্বাধীন বিচার পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি করবে এবং মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।”

তিনি বলেন, “এই আইন পাসের মাধ্যমে সরকার পুরোপুরি বিচারপতিদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই ভীতিকর। এই ভোটারবিহীন সরকার প্রধানের ক্ষমতার প্রতি নিবিড় নিবিষ্ট ধ্যানকে কেউ যেন নাড়া দিতে না পারে সেইজন্যই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। এই আইন প্রণয়নের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে ক্ষমতার মসনদকে নিষ্কণ্টক করা এবং তাদের প্রতিপক্ষকে দুরমুস করা। সম্প্রতি ভোটারবিহীন সরকারের তিন জন মন্ত্রী উচ্চ আদালতে দন্ডিত হওয়ায় সরকারের মধ্যে একধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর সে কারনেই তড়িঘড়ি করে বিচারপতিদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই নতুন আইন পাশ হতে যাচ্ছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, এখন তা সংসদে পাশ করার প্রক্রিয়া চলছে। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের এই আইন পাশ করা হলে সংবিধানের সর্বশেষ স্তম্ভটুকুও বিলীন হয়ে যাবে।”

তিনি আরো বলেন, “গণমাধ্যমকে আরো বেশি মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করতে মিডিয়া মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গতকাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। এর আগে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমেও গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমনকি দেশীয় গণমাধ্যমের বিকাশের নামে বিদেশী গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণের সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ আলামত কোনো শুভলক্ষণ নয়। সরকারের অনাচার ও দুর্নীতির গন্ধ বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এখন সেই দুর্গন্ধ চেপে রাখতে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার মিডিয়াসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণে বেপরোয়া আগ্রাসন চালাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ