দেবাশীষ মজুমদারের দুটি কবিতা

হসপিটাল ডায়রি -১

#

এখানে মুখ টিপে হাসে ছিনাল সময়, মুখোশের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে বেরঙের মেজাজ, চিত্রকল্প, উপমা। মৃত্যুকে ভালবাস, কেননা এক একটি মৃত্যু শত জন্মের সূচনা।

#

প্রেমকাহনে আমরা যে স্বপ্নচূর্ন সাজাই, তার আবডালে বুকের গভীরে কেঁচো খুঁড়ছে মাটি, সুতরাং যে কোন মুহূর্তে কবিতারা যাবতীয় সন্নাটা ভেঙ্গে দিতে পারে, হতাশারা এমনই, খামখেয়ালি।

#

খনন শেষে ঘুমপাড়ানি গান আর ‘থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার’, আড়ালের মাখামাখি শেষে, সমুদ্র থেকে হাওয়ামোড়গের গা ঘেঁসে ঝরে পড়ে লবণ ক্ষেতের সংলাপ। বাকিটা ব্যক্তিগত।

#

এদের বৃষ্টিহীন ঘর সংসার, ত্রিপথগামিনী ভালবাসা, কোথায় বাজছে হাইওয়ে ব্লুজ! I’ve got the highway blues / In my holy (holey, wholly) shoes / And I cannot choose/ What I look like, ব্যালকনিতে ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে দিন, রিক্সাগুলো গলি ধরে পেরিয়ে যেতে যেতে ছড়িয়ে দিচ্ছে মন খারাপের টুংটাং –

#

মোমের সলতেয় ছোঁয়ালে নিঃশ্বাস যৌগিক ছায়াচিত্রের যে সমস্ত ব্যালে শুরু হয়, চিত্রল প্রজাপতি বুকের নরোমে, কেঁপে ওঠে নগ্নিল সাম্পান, লুট হয়ে যাচ্ছে হৃদশব্দ পৌনঃপুনিক। মোমজীবন -মোমজীবন -মোমজীবন -থমকে আছে -আকরিক ঘুমে।

 #

স্নানের গল্পে উড়ে আসে এক মায়াবিনী টাপুর ধ্বনি, বেশুমার সুখের কোলাজ হাতছানি দ্যায়, চারিদিকে হোলির মাতম, অথচ বৃত্তের নীল মাখা শুধু তুমি একলাই, ক্যানভাসে লাগিওনা প্লীজ, নীল বড় কষ্টের। স্বপ্নশেষে বীজগুলো বাগানে যায়, গোলাপ হয়ে ফিরে আসে, কাটাগুলো ফুলের সাথে ফোটে, এমনই ব্যক্তিগত ঘূর্ণির ক্ষুধাচক্র।

 

হসপিটাল ডায়রি -২

 

#

ওই চোখ একদিন তেমনি, আগুন ঝরাতে এসে হয়ে গ্যাছে অরণি, তীর হয়ে বিঁধেছিল বুকের নিবিড়ে। এমনই আনাড়ি, তবু তাকে ডেকে বলি, এসো দিন-রাত্রি পোড়ে, শুনতে পেয়ে, কেঁপে ওঠে শাড়ি।

#

শিরা-উপশিরা মিছেই তাদের কান্নার কথা বলছে, জানিনা কোথায় পা টেনে টেনে হতাশ বছর চলছে। মাথার ভিতর অজস্র শিকড় বাকড়ের আঁকিবুঁকি অসংযত, একটা জীবনভর এতো মৃত্যু, এতো বেঁচে থাকা, হচ্ছে কি মন মতো?

#

আড়ে-ঠারে চাই, যে সমস্ত ভয়ার্ত ভৌতিক ধ্বনি অহর্নিশ, হিরণ্ময় পাত্রে টেনে তুলছে বিষ! জ্বালিয়ে দ্যায় চোখের কোটরে ত্রাস, দু-খানি চাঁদ, দু-খানি চাঁদ, আমায় মারতে চাস!

#

ভেসে যাচ্ছে নিরুদ্দেশ, শান্ত বিপুল আকাশে মৌনতারা হাজার হাজার নীল পাখি হয়ে উড়ে যাচ্ছে কোন অন্ধকারে, রক্ত ক্লেদ! শীতঘুম ফুড়ে স্বপ্ন আঁকি বালির বিছানায়, তারপর? না, এ সমস্ত দুঃস্বপ্নের কোন কমার্শিয়াল ব্রেক নেই। সেই প্রথম দিন থেকে শববাহকেরা ছন্দ মেনে চলে, কবিতা কি আজকের!

#

হাসপাতালের বিছানায় বাবা, খানিক দূরে আমি আর দেয়ালে একটা টিকটিকি, বাবা বিড়বিড় করছেন, তার শরীরে সেঁধিয়ে যাচ্ছে ঝুলিয়ে রাখা তরল, যেভাবে নদীকে খর সমুদ্র টানে, কবিতা আমাকে টানছে, বাবা বলছেন, দীপ নিভে গেছে, আমি বলছি, থেমে থাকো শরীরী কবিতা, টিকটিকি বলছে ঠিক ঠিক, বাবা বলছেন, মুক্তি চাই, আমি বলছি, আশার অশ্ব, সোনার মুখোশ, টিকটিকি বলছে ঠিক ঠিক, বাবা বলছেন, বমির দাগ, আমি বলছি, ভেসে আসছে ভাঙ্গন, টিকটিকি বলছে ঠিক ঠিক –

ড্রপসিন নেমে এলে দুম করে, দেখা যাবে মধ্য রাত থমকে আছে, কেবিন জুড়ে ঝরে পড়ছে অগুনতি লিরিকস, ধুক পুক ধুক পুক ধুক পুক –

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ