বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এক এগারো ষড়যন্ত্র হয়েছিলো- এটা বিশ্বাস করে থাকলে ‘কুশীলব’দের কেন বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না?
খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) নিজে বলেছেন, মাইনাস টু ফর্মূলা। আমরা যদি একসঙ্গে থাকতাম, তাহলে ১/১১ ওয়ালাদের কিচ্ছু করার সাহস ছিলো না।”[ad id=”28167″]
মঙ্গলবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে বিগত আন্দোলনে চট্টগ্রাম জেলায় নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের আর্থিক অনুদান প্রদান উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রশ্ন করেন, ‘‘১/১১ এর অবৈধ সরকারকে উনি (শেখ হাসিনা) আন্দোলনের ফসল বলেছিলেন। তাদের (ফখরুদ্দিন আহমেদ) শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। গণমাধ্যমের সবাই সব দেখেছেন। তার মানে উনি এটা (১/১১) করিয়েছেন। তাই এর দায়িত্ব থেকে উনি বাদ পড়তে পারেন না।”
খালেদা জিয়া বলেন, “তিনি (শেখ হাসিনা) তাদের সঙ্গে কাকুতি-মিনতি করে ১১ মাসে বেরিয়েছেন। আর আমি তাদের সঙ্গে রীতিমতো ফাইট করেছি। বলেছি-তোমাদের কথা মতো আমি চলবো না। আমি জনগনের সাথে বেঈমানি করে কিছু করতে পারবো না। দেশের মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারবো না। সেজন্য আমি দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি। আমি ১ বছর ৮ দিন জেলখানায় ছিলাম।”
এরশাদের সমালোচনা করেও খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘ও তো দলাল, সব সময় দালালীই করেছে।”[ad id=”35817″]
সরকারের দমন-পীড়নের কঠোর সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘দেশ মোটেই ভালো নেই। প্রতিনিয়ত মানুষ ধরছে। আমাদের লোকজন জামিন পাচ্ছে, আবার জেল গেইট থেকে নতুন মামলা দিয়ে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে। এগুলো কি? আমি বলব ওরা (সরকার ) ১/১১ এর লোকদের থেকেও খারাপ কাজ করছে। এরজন্য একদিন জবাব দিতে হবে।”
‘‘মাহফুজ আনাম তো স্বীকার করেছেন। তাহলে এখন গুটি কয়েক তো দেশেই আছে । তারা কেনো এখনো বহাল তবিয়তে আছে, তারা কেনো বাইরে আছে, ভেতরে নেই। তখন ডিজিএফআইয়ের প্রধান রুমি (মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি), এখন দেশেই আছে। মাসুদ (লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী) তো অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। কতবার এক্সটেশন পেয়েছেন এই সরকারের মাধ্যমে। কেন তাকে ধরা হয় না। এখন তো দেশেই আছেন। হাসান মাশহুদ চৌধুরী এন্টি কারাপশনে ছিলেন, দেশেই আছেন শুনেছি। সে দুর্নীতি দমন কমিশনে এসব মামলা করেছে। তাদের কেন ধরা হয় না? ”
খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘আমি বলব, তাদের (সরকার) যদি সততা থাকে, সত্যি যদি উনি (প্রধানমন্ত্রী) এটা মিন করে থাকেন, তাদের ধরে দেখিয়ে দেবেন, প্রমান করে দেবেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) এটা মিন করছেন, সত্যি বলছেন।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের ষোলকবহরের হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী জেসমিন আক্তার এবং আন্দোলনে আহত পাহাড়তলীর সাগরিকার দক্ষিন কাট্টলীর মো. আরাফাত, মো, ইয়াছির, মোহাম্মদ রাজিব, সরাইপাড়ার মো. বদরুল আলম, চাঁদগাঁওয়ের ৪ নং ওয়ার্ডের নওশাদ আল জামসেদুর রহমান ও খুলশীর ঝাউতলার শাহ আলম মুনের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। [ad id=”28179″]
আসন্ন ইউনিয়ন পরিদ নির্বাচন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘এটা নির্বাচন নির্বাচন খেলা। গণতন্ত্রকে তারা হাস্যপ্রদ করে ফেলেছে। কারণ এই সরকার জনপ্রতিনিধির রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। তারা অবৈধভাবে সরকারের আছে।”
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বক্তব্য উদ্ধৃতি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘প্রধান বিচারপতি যেগুলো বলেছেন, অবসরের যাওয়ার পরে আর রায় লেখার সুযোগ খাকে না। তার মানে উনি (সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক) অবসরে যাওয়ার আগে যে রায়টা দিয়েছেন, ওইটি কার্য্কর। অর্থাৎ আরো দুইটি টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আমাদের দাবিও সেখানে।”
খালেদা জিয়া বলেন, ‘২০১৪ সালে কোনো নির্বাচন হয়নি। কাজেই আমাদের দাবি আরেকটা নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তাদের যদি কোনো ভয় না থাকে, তাহলে সকলকে সমান সুযোগ দিয়ে সব দলের অংশ গ্রহনের একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন।’
আন্দোলনে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘এখানে কথা উঠেছে, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ গ্রহন করেছিলো, তাদেরকে দলে ভালো ভালো জায়গা দিতে হবে। আমিও করতে চাই, কিন্তু আমাকে সহযোগিতা করতে হবে। সত্যিকারভাবে যারা কাজ করেছে, তাদের নামগুলো আমাকে দিতে হবে। ছাত্র দল ও যুব দলের ছেলেরা এখন তারা ছোট নয়। এখন কিন্তু তাদের দলের দায়িত্ব নেয়ার সময় এসে গেছে। আমি বলব, বয়স্ক নেতা যারা আছেন, তারা দলকে অনেক দিয়েছেন, বয়স হয়েছে, এখন তাদেরকে আমরা উপদেষ্টা পরিষদের নিয়ে তরুনদের সামনে আনবো যাতে তারা দেশ ও দলের জন্য কাজ করতে পারে- এটা আমার ইচ্ছ। আমি সবার সহযোগিতা চাই।
আন্দোলনে আহত নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় দলের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবানও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফারহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বক্তব্য রাখেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
























