৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হুমকির কারণে ‘মেসি বালক’ এখন পাকিস্তানে

মনে আছে আফগানিস্তানের মেসির ভক্ত সেই ছোট্ট শিশুটির কথা! আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনাল মেসি ক্ষুঁদে এই ভক্তের জন্য নিজের জার্সি উপহার দিয়েছিলেন । এরপর থেকেই ৫ বছরের মোহাম্মদ মুর্তজা আহমাদি সারা বিশ্বে ‘মেসি বালক’ হিসেবে প্রচার পায় । কিন্তু মেসির ভক্ত হওয়ার কারণেই দেশ ছাড়তে হয়েছে তাকে ও তার পরিবারকে । তারা এখন পাকিস্তানের কোয়াটায় বসবাস করছে।

এ সম্পর্কে মুর্তজার বাবা আরিফ আহমাদি কোয়েটা থেকে টেলিফোনে সংবাদ সংস্থা এপিকে বলেছে, ‘আমাদের জীবন খুব কষ্টকর হয়ে ওঠেছিল।’ তিনি আরো জানান, তার পরিবার আফগানিস্তান ছাড়তে চায়নি। কিন্তু অব্যাহত হুমকির মুখে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশের জাগুরি গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের ছেলে মুর্তজা আহমাদি। কিন্তু মেসির উপহার পাওয়ার পর থেকে তার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। একটি অপরাধী চক্র তাদের কাছে টাকা চেয়েছিল। টাকা দেয়া না হলে মুর্তজাকে অপহরণ করারও  হুমকি দেয়া হয়েছিল।

এ ব্যাপারে আহমাদি বলেন,‘কয়েক দিন আগে স্থানীয় একজন গুন্ডা আমাকে ফোন করে। মেসি আমার ছেলেকে টি-শার্ট উপহার দেওয়ার পর থেকেই তার ধারণা, হয়ত আমার ছেলের জন্য অর্থও পাঠানো হয়েছে। সে তার ভাগ চাইতে থাকে।’ শেষে ছেলের জীবনের নিরাপত্তার জন্য গোটা পরিবার নিয়ে পাকিস্তান পাড়ি জমান।

মর্তুজার বাবা আরো বলেন,‘আমি সবকিছু বিক্রি করে আফগানিস্তান ছেড়ে এসেছি। ছেলে আর পরিবারের নিরাপত্তার জন্যই আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ প্রথমে পরিবারটি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু এখানকার জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হওয়ায় পরে তারা কোয়াটায় চলে আসে। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছে ‘মেসি বালক’ ও তার পরিবার।

প্রসঙ্গত, আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা মেসির ব্যাপক ভক্ত পাঁচ বছরের মুর্তজা। সামর্থ্য না থাকায় সে পলিথিন ব্যাগ কেটে তাতে নীল কালিতে ‘মেসি’ ও ‘১০ নম্বর’ লিখে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের ‘জার্সি’ তৈরি করেছিল। সেই জার্সি পরা মুর্তজার ছবি দেখে মেসি তাকে উপহার হিসেবে নিজের সই করা দু’টি জার্সি ও একটি ফুটবল পাঠিয়েছিলেন। এতে দারুণ খুশী হয়েছিল মর্তুজা। ‘এখনো মেসিকে ভালোবাসে সে। স্বপ্ন দেখে, একদিন বড় হয়ে তার স্বপ্নের নায়ক মেসির সঙ্গে দেখা করবে।’ বলছিলেন তার বাবা আহমাদি।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ