১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হবিগঞ্জে পিতাকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে পুত্র

একের পর এক হত্যা। মা মারল নিজ সন্তানদের। এবার নিজ বাবাকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ। দেশের মানবাধিকার চরম বিপর্যয়ের দিকে চলে যাচ্ছে। হবিগঞ্জ শহরে বৃদ্ধ বাবাকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিতাব আলী (৭০) হবিগঞ্জ শহরের মাহমুদাবাদ এলাকায় থাকতেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের কারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।hobigong

প্রতিবেশিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা জায় জায়গা বিক্রির টাকা নিয়ে ছেলেদের সঙ্গে মনোমালিন্যের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।নিহত কিতাব আলীর বোন পুতুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিনি তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান। কিন্তু কিতাব আলীর ছেলে-মেয়েরা তার ভাই বোনসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের কোনো খবর না দিয়ে তাড়াতাড়ি করে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে নিহতের ছোট ভাই বিলাত মিয়া, বোন জমিলা বেগম ও পুতুল বেগম তাদের ভাই কিতাব আলীর মৃত্যুর খবর পেয়ে রাত ১০টায় দিকে তার বাসায় যান। এ সময় তারা কিতাব আলীর গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তাতে তাদের সন্দেহ হয়, সন্তানরা কিতাব আলীকে হত্যা করেছে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তারা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশকে অবগত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য অনুরোধ জানান হয়।পরে দিবাগত রাত ১১টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপপরিদর্শক (এসআই) একেএম রাসেলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

কিতাব আলীর ছোট ভাই বিলাত মিয়া বলেন, “নিহতের ছেলে জুনায়েদ মিয়া ওরফে জুয়েল ও আল-আমিন সম্পত্তির লোভে তার বাবাকে হত্যা করে আমাদের না জানিয়ে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংবাদ পেয়ে আমরা এ বিষয়টি পুলিশকে জানাই।”তবে হত্যার ঘটনা অস্বীকার করে কিতাব আলীর বড় ছেলে জুনায়েদ মিয়া।তিনি জানান, তিনি সিলেটে তাবলীগ জামাতের চিল্লায় ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে খবর পান তার বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছেন। এ খবর পেয়ে তিনি বাসায় ফেরেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবা অ্যাজমায় আক্রান্ত ছিলেন। ইতোপূর্বে আরো একবার স্ট্রোক করেছিলেন।”মৃত কিতাব আলীর গলায় আঘাতের চিহ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে ছেলে জুনায়েদ মিয়া জানান, দুপুরে তাদের বাসায় শায়েস্তানগর এলাকার চাল বিক্রেতা দরবেশ আলী চাল বিক্রির জন্য এসেছিল। এ সময় টাকা দেয়া-নেয়া নিয়ে দরবেশ আলীর সঙ্গে তার বাবা কিতাব আলীর কথা কাটাকাটি হয়।সেখানে কিছু হয়েছে বলে তিনি অনুমান করছেন তবে তা তিনি নিশ্চিত নন।

“তবে ধারনা করা হয় এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। পরে আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের সংবাদ দিয়ে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেই। কিন্তু আমার বাবার মৃত্যুকে ভিন্ন খাতে নিতে আমার বাবার সৎ ভাইয়েরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কোনো ছেলে বাকে হত্যা করতে পারে না।” জানান জুনায়েদ।সব বিষয়ে তদন্ত চলছে জানায় পুলিশ।তদন্তের শেষে সব খোলাসা করবে বলে জানায় পুলিশের অন্ন এক সূত্র।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ