সাবেক প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন ও সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের কাছে রায় লেখার অপেক্ষায় থাকা ১৬৮ মামলার পুনঃশুনানি হবে না বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
এর ফলে আগামী এক মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এ মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ রায় ও আদেশ দেওয়া হবে।আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত জানান।জানা গেছে, ১৬৮টি মামলার মধ্যে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের কাছে রয়েছে ১৬১ মামলা। আর বাকি ৭টি মামলা আছে মোজাম্মেল হোসেনের কাছে।এর আগে ২৮ এপ্রিল এই মামলাগুলো পুনঃশুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রাখা হয়।
বেশিরভাগ মামলার রায় লেখার কাজ শেষ করেছিলেন ওই দুই বিচারপতি। কিন্তু প্রধান বিচারপতির কাছে তাদের লেখা রায় গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় মামলাগুলো পুনঃশুনানির নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।২০১৫ সালের ১ অক্টোবর আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। অবসরে যাওয়ার সময় ১৬১টি মামলার রায় লেখার দায়িত্ব ছিল এই বিচারপতির।এসব মামলা তার অবসরে যাওয়ার আগেই আপিল বিভাগ বিভিন্ন সময়ে শুনানি গ্রহণ সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত আদেশও জানিয়ে দেন। শুধু পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার কাজ বাকি ছিল।এমনই এক পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গত ১৭ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বাণীতে অবসরের পরে রায় লেখাকে সংবিধানপরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো বিচারপতি রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন। আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘদিন সময় ধরে রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধানপরিপন্থী।’বিচারপতি সিনহা তার বাণীতে বলেন, ‘কোনো বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণ্য হন বিধায় তার গৃহীত শপথও বহাল থাকে না।’
এরপর গত ২২ জানুয়ারি মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারপতিদের অবসরে যাওয়ার পর আর কোনো রায় লিখতে দেয়া হবে না। আমাদের দেশে অতীতে এ রকম রায় দিলেও এখন থেকে আর এ সুযোগ দেয়া যাবে না।’এরপর তীব্র সমালোচনার মুখে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৬৫টি মামলার রায় ও আদেশের কপি হাতে লিখে জমা দেন।
























