বকেয়া বেতনভাতার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুটি রফতানিমুখী পোশাক কারখানায় বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকেরা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করে। ১১ জানুয়ারি শনিবার বিকালে তারাব পৌরসভার বরপা অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানা ও সকালে হাটাব হান্ডি মার্কেট এলাকার সিনহা গ্রুপের পৃথা ফ্যাশন কারখানায় তারা বিক্ষোভ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকেরা জানান, অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানায় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতনভাতা পরিশোধ করার কথা থাকলেও জানুয়ারির ১১ তারিখ হয়ে গেলেও মালিকপক্ষ বেতনভাতা পরিশোধ করেনি। বিকালে শ্রমিকেরা ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতনভাতা চাইতে গেলে মালিকপক্ষ দিতে পারবে না বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে করে সড়কের উভয় দিকে যানবাহন আটকা পড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে দাবি দাওয়ার বিষয়টি শোনেন। পরে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তখন মালিকপক্ষ আগামী ২৩ জানুয়ারি বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘বকেয়া বেতনভাতা দিতে দেরি হওয়ায় শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়েছিল। পরে তাদের বোঝানোর পর শান্ত হয়ে যায়। আগামী ২৩ জানুয়ারি শ্রমিকদের সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে।’
শনিবার সকালে উপজেলার হান্ডি মার্কেট এলাকার সিনহা গ্রুপের পৃথা ফ্যাশনের শ্রমিকেরাও বিক্ষোভ করে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা জানান, পৃথা ফ্যাশনে কর্মরত ২৬৬ জন শ্রমিকের পাওনা বেতন, ৫৬ জনের চাকরি ছাড়ার এককালীন ভাতাসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করে রাতের আঁধারে কারখানা গেটে নোটিশ ঝুলিয়ে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ। তাদের নোটিশে বলা আছে, ৬০ দিনের মধ্যে সব শ্রমিকের সব পাওনা পরিশোধ করা হবে। অথচ তারা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করেই কারখানার সব মালামাল নিয়ে যাচ্ছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পোশাক কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
























