যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে কোন্দল : চলছে বহিষ্কার

আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে চলছে বহিষ্কারের মতো ঘটনা। বিষয়টি নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে।

সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে স্থানীয় সাধারণ সম্পাদককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সহসম্পাদকসহ আরও আটজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘন ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করায় কয়েকজনকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এখন নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠন নিয়ে।
এ মাসের শুরুতে আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের সমর্থকেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিউইয়র্কে সংবর্ধনা দেওয়ার নামে ‘লক্ষ ডলারের’ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করছে। সাজ্জাদুর রহমান ও সহসম্পাদক নিজাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সভা থেকে সিদ্দিকুর রহমানকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে নিউইয়র্কে সংবর্ধনা দেওয়ার নামে আসা অর্থ তহবিলের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এর জের ধরে ঢাকা থেকে আসা ‘নির্দেশের’ মাধ্যমে সাজ্জাদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দলের সভানেত্রীর সরাসরি নির্দেশে এসব সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস বলেন, দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের তৎপরতা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কড়া নির্দেশনা এসেছে। সাজ্জাদুর রহমান তাঁর ছেলেকে দিয়ে ‘নবীন লীগ’ নামের একটি সংগঠন তৈরি করেন। এ সংগঠনের জন্য কোনো অনুমতি ছাড়াই দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করা হয়। গত সপ্তাহে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ‘নবীন লীগ’ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, কারণ দর্শানো নোটিশ পাওয়া নিজাম চৌধুরী বাংলাদেশে থাকেন ও একটি ব্যাংক পরিচালনা করেন। কিছু দিন পর পর নিউইয়র্কে এসে দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করেন।
অপর সাংগঠনিক সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, দলের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী মদদদাতা ও সহযোগীদের কারণ দর্শানোর মাধ্যমে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কারণ দর্শানোর পর তাঁরা সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। গত রোববার কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এদের চূড়ান্তভাবে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য ঐকমত্য হয়েছে। কেন্দ্রের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন অপেক্ষা করা হচ্ছে।
কারণ দর্শানো বিজ্ঞপ্তি পাওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিব মামুন বলেন, ‘ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁরা কখনো দলের শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ছিলেন না। পকেটের লোক দিয়ে নয়, দলের নিয়মনীতি মেনে, সাংগঠনিক দায়িত্বের লোকজনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দল পরিচালনা করার জন্য আমরা চেষ্টা করছিলাম।’
চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের করা কমিটির নয়জনই মারা গেছেন। ১৫ জন কোনো সময়ই দলে সক্রিয় ছিলেন না। এখন সাধারণ সম্পাদকসহ নয়জনকে বহিষ্কার করা হলেও দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি করা হবে বলে মনে করছেন নেতা-কর্মীরা। সিদ্দিকুর রহমান এ সপ্তাহে ঢাকা গেছেন। কারণ দর্শানো বিজ্ঞপ্তি পাওয়া সহসম্পাদক নিজাম চৌধুরীও নিউইয়র্ক এখন ঢাকায়। যুক্তরাষ্ট্রে দুজনের মধ্যে চরম বিরোধ থাকলেও ঢাকায় তাঁরা একই ব্যবসায় অংশীদার। আপসরফা হবে না, না বিশৃঙ্খলা দমন করে যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি হবে—এ নিয়ে আলোচনায় দিন কাটছে এখানকার নেতা-কর্মীদের।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ