ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়ে মাস্টার কার্ড ইস্যু করে তার মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করছে একটি চক্র। এই চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির অর্গানাজড ক্রাইম ইউনিট। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়ে মাস্টার কার্ড ইস্যু ও বিক্রির কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। তারা আরো জানায়, দেশে এই চক্রের অনেক সদস্য রয়েছে যাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে হাজারীবাগ থানার মোহাম্মদ সুমন মিয়ার বাড়ীর একটি ফ্ল্যাট থেকে চক্রের মূল হোতা ইমরানসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় ১৪১ টি পেওনিয়ার প্রিপেড মাস্টার কার্ড, নগদ ৯ লক্ষ একুশ হাজার পাঁচশত টাকাসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইস। সিআইডি বলছে, ইন্টারনেট ভিত্তিক অনলাইন মাস্টার কার্ডে বিভিন্ন ভুয়া নাম, ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া প্রিপেইড মাস্টার কার্ড ইস্যু করে তা পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে আসছে চক্রটি।
গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে চক্রের সদস্যরা ভুয়া নাম ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ই-মেইল একাউন্ট ব্যবহার করে ইংল্যান্ড ভিত্তিক পেওনিয়ার প্রিপেইড মাস্টার কার্ড এর জন্য অনলাইনে আবেদন করত এবং আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে ডাক যোগে তাদের দেয়া ঠিকানায় কার্ড চলে আসত। পরে হুন্ডিতে ডলার কিনে পেওনিয়ার, নেটেলার, ফার্স্টচয়েস, পেপল এবং অন্যান্য পোর্টালের মাধ্যমে মুদ্রা পাচার করত। সিআইডির মুখপাত্র জানান অপরাধী চক্রের আরো সদস্য রয়েছে যাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে সিআইডি।
সিআইডির মুখপাত্র মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই কার্ডে প্রতিদিন পাঁচ হাজার ডলার করে সর্বোচ্চ পঁচিশ হাজার ডলার মাসে ইন করা যায়। আপনি মনে করেন, কয়েক কোটি টাকা এখানে ইন করে নিয়ে গেলেন। কার্ডটা আপনার পকেটে থাকলো, বিদেশে যাচ্ছেন, ইচ্ছা মতো খরচ করছেন, ক্যাশ করছেন, টাকাটা চলে যাচ্ছে। তারা কোটি কোটি টাকা এটার মধ্যমে ট্রান্সফার করেছে।’
পাচার রোধে বিদেশী ব্যাংকগুলো সাথে যোগাযোগ করা হবে বলেও জানান সিআইডির মুখপাত্র।
























