তমদ্দুন মজলিসকে ভাষা আন্দোলনের স্থপতি সংগঠন হিসেবে দাবি করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, ১৯৪৭ সালে লাহোর প্রস্তাবের আংশিক বাস্তবায়ন হয়। তখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করে অবাঙালি আমলারা। ফলে ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দু’ শীর্ষক পুস্তিকা প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে তমদ্দুন মজলিস। এই ইতিহাস বিকৃতি না করার দাবি করে সংগঠনটি। গতকাল রবিবার ভাষা আন্দোলনের দিন জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার মাধ্যমে সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেয়ার আহবান করা হয়। ‘বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য চারজনকে মাতৃভাষা পদক-২০১৬ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম শমসের আলী, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। আলোচক ছিলেন ভাষা সৈনিক অধ্যাপক আবদুল গফুর, সাবেক কূটনীতিক ড.মুহাম্মদ সিদ্দিক, সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক এম এ সামাদ।
বক্তরা বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান করেন। তারা মনে করেন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধে সর্বমহলের পদক্ষেপ জরুরি। তারা যখন কেউ আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলবে তখন তাকে সঠিক আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা, ফাগুন মাসের পয়লা তারিখ হতে বইমেলা চালু করা ,বাংলা তারিখ আগে লেখা, রাজধানীর লোককে শুদ্ধ করে বাংলা ভাষা বলার দাবি করেন। এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নে তারা স্কুল, কলেজ,বিশ্ব বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা রাখার আহবান করেন। ‘ভাষার অমর্যাদা চাই না, শহীদের রক্ত বৃথা হতে দিব না’ স্লোগান নিয়ে এ বছর ভাষা শহীদ আবুল বরকত (মরণোত্তর), আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ(মরণোত্তর), অধ্যাপক এবনে গোলাম সামদ (বাংলা সাংবাদিকতা), অধ্যাপক এমএ বার্ণিক (ভাষা আন্দোলন গবেষণা) তমদ্দুন মজলিস মাতৃভাষা পদক প্রদান করা হয়।
























