১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারনা এবং মধ্যযোগীয় কায়দায় নির্যাতন

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার-কচুবাড়ীয়া মাঠের পাশে খালের কিনার থেকে রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টায় হাতে-পায়ে পেরেকবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত যুবকের নাম সুজন (২৮)। সে উদ্ধারস্থলের পার্শ্ববর্তী কচুবাড়ীয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। আহত যুবক সুজন বর্তমানে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়, পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় ২ মাস আগে সুজন একই গ্রামের নিকটতম প্রতিবেশী মৃত কাশেম মণ্ডলের ছেলে আদম ব্যাবসায়ী বদরুল মণ্ডলের (৪৫) মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা খরচ করে কাতারে যায়। কাতারে গিয়ে সুজন জানতে পারে আদম ব্যবসায়ী তাকে ভিসার মেয়াদ ৩ বছর বলে বিদেশ পাঠালেও ভিসার মেয়াদ রয়েছে মাত্র ৩ মাস। ভিসার মেয়াদ না থাকায় সুজন ২০ মার্চ কাতার থেকে বিকেল ৫ টায় ঢাকা পৌছায়। বিমান বন্দরে নেমে সুজন তার স্বজনদের জানায় রাত ১১ টার কোচে সে বাড়ীতে ফিরছে।

পরদিন ভোরে (২১ ফেব্রুয়ারি) সুজনের বাড়িতে ফেরার কথা থাকলেও সময়মত বাড়ীতে না ফেরায় পরিবারের স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ শুরু হয়। হঠাৎ রাতে সুজন মুঠোফোন থেকে তার পরিবারের কাছে কল করে জানায় আমি কচুবাড়ীয়া মাঠের মধ্যে আছি। তারপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরে সুজনের স্বজনদের সঙ্গে এলাকাবাসী উল্লেখিত স্থান থেকে তার শরীরে অসংখ্য জখমের চিহ্ন ছাড়াও ২ হাত,২ পায়ে ৪টি পেরেকবিদ্ধ, সংজ্ঞাহীন এবং গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার হাতে ও পায়ে বিদ্ধ থাকা ৪টি পেরেক অপসারণ করেছেন। কারা সুজনকে মধ্যযুগীয় ধরনে নির্যাতন করে উল্লেখিত স্থানে ফেলে রেখেছে তা জানা না গেলেও আহত সুজনের মাতা আবেদা খাতুন জানান, প্রতারনা করে যারা আমার ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছে তারাই আমার ছেলে হত্যার চেষ্টা করেছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ