১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম টি.সি ফিটার আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ

সোহেল সরকার, চট্টগ্রাম: গত ৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ঢাকা থেকে (রেজা প্রিন্টিং প্রেস, ১৯৫/ক, ৭/১ ভগবতি ব্যানার্জী রোড, ওয়ারী- ঢাকা) প্রকাশিত দৈনিক নব অভিযান পত্রিকায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের টি সি ফিটার আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ’ নামের একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় যা সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। সংবাদে লেখা হয়, আব্দুল জলিলের বর্তমান ঠিকানা টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনী ব্লক-১০, ১/আই দ্বিতীয় তলা খুলশী, চট্টগ্রাম। এই বিষয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংবাদে লেখা ব্লক-১০, ১/আই দ্বিতীয় তলা বাসাটিতে অন্য কেউ থাকেন। এছাড়া বাসাটি অন্য কারো নামে।
সংবাদে আরও লেখা হয়, আব্দুল জলিল চট্টগ্রাম টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনী ও সিআরবি এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ ভাসা বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে নব অভিযান পত্রিকার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মো. হাসান বিশ্বাসর সাথে কথা বললে তিনি এর কোন প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সংবাদে লেখা হয়, গত ৩০/০৮/১৭ তারিখে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট আদালতে ১৯৮০ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারা মোতাবেক একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন স্বামী গোলাম সামদানীর বিরুদ্ধে স্ত্রী তানজিলুর নুর। যার নং-সি আর- ২৩৩/২০১৭ (খুলশী)। মামলায় অভিযোগ করেন, বিয়ে হওয়ার পর থেকে শ্বশুর আব্দুল জলিলের পরামর্শে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী তানজিলুর নুরকে নির্যাতন করে আসছে। মামলায় আরও অভিযোগ করেন, ছেলে গোলাম সামদানী সোহাগ মটরসাইকেল কেনার জন্য আরও দেড় লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দেড় লক্ষ টাকা মেয়ের পরিবার দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন অত্যাচার করে আসছিল। এছাড়া দেবর গোলাম হাক্কানীর বিরুদ্ধেও একটি কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় ।

এবিষয়ে আব্দুল জলিলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আর্থনিউজ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। বিয়ের এক মাসের মাথায় আমার ছেলে আর ছেলের বউ নগরীর বায়েজিদ এলাকার (প্লাট নং সি-১, তয় তলা, ৯৩/এ, ড্রিমলাইন আবাসিক এলাকা) একটি বাসায় বাড়া থাকতো। আমি রেলওয়েতে চাকরি করি। আমার ছেলের সাথে আমার তেমন কথাও হয়না। এই অল্প সময়ে কিভাবে আমি যৌতুকের জন্য ছেলের বউকে নির্যাতন করার পরামর্শ দিই? মোটর সাইকেলের জন্য দেড় লক্ষ টাকার যে অভিযোগ তুলেছে সেটাও ভুয়া। আমার ছেলে বিয়ের সাত মাস আগেই একটি টি.ভি.এস মটর সাইকেল শো-রুম থেকে ক্রয় করে। যার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার- চট্ট- মেট্রো-হ- ১৪-৪৩৭৯।

দেবরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদে গোলাম হাক্কানী বলেন, ‘বিয়ের এক মাস পরেই ভাই ও ভাবি আমাদের বাসা ছেড়ে বায়েজিদ এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ওই বাসায় আমি একা কোন দিনও যাইনি। শুধু ভাইয়ের ছেলের জন্মদিনের দিন পরিবারের সবাইর সাথে একবার গিয়েছিলাম। অন্যদিকে আমার নিজেরও স্ত্রী আছে। ভাবিরা মায়ের সমতুল্য। মায়ের সমতুল্য ভাবিকে কিভাবে আমি এমন খারাপ প্রস্তাব দিতে পারি? আমার সম্মান নষ্ট ও ফাঁসানোর একটা বড় ষড়যন্ত্র।’

জানা যায়, গোলাম সামদানী বিশিষ্ট সৎ কর্মজীবী ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক। এছাড়া গোলাম সামদানী রোটারী ক্লাব অব ইসলামাবাদের ২০১৭-১৮ বছরের সভাপতি।

উক্ত সংবাদ পত্রে আব্দুল জলিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে লেখেন, ৫০টি অবৈধ বাসা তৈরি করে কোন বিদ্যুৎ বিল প্ররিশোধ করছে না। এ বিষয়ে আব্দুল জলিল বলেন, ‘যেখানে আমার নামে রেলওয়ের কোন কোয়াটারই নেই সেখানে অবৈধ বাসা ঘর তৈরি করে বিদ্যুৎ লাইন লাগানো অসম্ভব একটা বিষয়। নব অভিযান পত্রিকায় আমার এবং আমার ছেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তুলে লেখা হয়েছে যা সম্পূর্ণ ভুয়া। এই অভিযোগগুলোর কোন ভিত্তি নেই। আমি এই দেশের সরকার ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। এভাবে আমাকে ফাঁসানোর কারণ কি?’

গোলাম হাক্কানীর কাছে ওনার ভাই ও বাবার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আর্থ নিউজকে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের বিবাহ ১/১১/১৫ সালে হয়। তার এক মাস পরেই আমার ভাই ও ভাবি আমাদের বাসা ছেড়ে অন্য বাসায় চলে যায়। তার পাঁচ মাস না গড়াতে ভাবি ও তাঁর বোনেরা আমার ভাইয়ের এবং আমাদের অনুপস্থিতিতে বাসা থেকে সাত ভরি স্বর্ণ ও নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। সে ঘটনার উপর ভিত্তি করে ভাই সামদানী খুলশী থানা বরাবর একটি জিডি করেন। যার নং- ৩০২/৪ (১১/৩/২০১৬ তারিখে)। এর কিছু দিন পর সামাজিক ভাবে ক্ষমা চেয়ে ভাইয়ের বাসায় ফিরে আসার এক বছর পর ভাই সামদানীর বিরুদ্ধে কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা করেন। মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলার কথা জানতে পেরে সাত দিন পর তালাক দেন। তালাক দেওয়ার চার দিন পর স্কলারশীফ পেয়ে দেশের বাইরে চলে যায় আমার ভাই। ভাই চলে যাওয়ার দুই দিন পরে ভাবি আমাদের বাসায় এসে মামলা হামলার হুমকি দিয়ে যায়। সে ভয়ে আমি খুলশী থানায় একটি জিডি করি। যার নং- ৫৩৩/ তারিখ ১৩/৯/২০১৭। জিডি বিষয় জানতে পেরে বাবা, অসুস্থ মা এবং ভাইসহ আমার বিরুদ্ধে ২১/৯/১৭ তারিখে একটি মামলা করেন।’

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ