৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফিলিপিন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া অর্থ জব্দ

ফিলিপিন্সের একটি ক্যাসিনো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া অর্থের ২৩ লাখ ডলার জব্দ করেছে দেশটির সিনেট তদন্ত কমিটি — জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ।

ক্যাসিনো ও জাংকেট অপারেটরদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের জন্য মামলা প্রসঙ্গে জুলিয়া বাকে-আবাদ বলেন, “আমরা এর মধ্যেই আবেদনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহেই এই মামলা করতে পারব।

ফিলিপাইনের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশটির রিজল ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই অর্থ ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ফিলিপাইনের মুদ্রা ব্যবস্থায় মিশে যায়।

ফিলিপাইনে এ ধরনের মামলায় অবৈধ সম্পদ ব্যবহারের প্রমাণ পেলে সরকার অভিযুক্তের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। সেক্ষেত্রে সম্পদের মালিকের আইনি লড়াইয়ের অধিকার থাকবে। কিন্তু তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, তার সম্পদ বৈধ অর্থ থেকে এসেছে।

এদিকে ফিলিপাইনভিত্তিক মানি এক্সচেঞ্জ ফার্ম ফিলরেম সার্ভিস কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া ওই অর্থের ১৭ মিলিয়ন ডলার তাদের কাছে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেট কমিটিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সিনেটররা অর্থ ফেরত চাইলে ফিলরেমের স্বত্তাধিকারী মাইকেল বাউতিস্তা বলেন, ‘স্যার, আমাদের কাছে ১৭ মিলিয়ন ডলার নেই।’

বাউতিস্তার স্ত্রী এবং ফিলরেমের প্রেসিডেন্ট সালুদ এর আগে কমিটিকে বলেছিলেন উইকাং ঝু নামের ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৬শ মিলিয়ন পেসো ও আর ১৮ মিলিয়ন ডলার মুদ্রা রূপান্তর করেছিলেন। রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি)’র সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মারিয়া সান্তোস দেগুইতোর নির্দেশনা অনুযায়ী উইকাং কাজটি করেছিলেন বলেও সে সময় দাবি করেছিলেন সালুদ।

মঙ্গলবারের শুনানিতে বাউতিস্তা দাবি করেন তাদের কাছে কোনও টাকা নেই। তারা সমস্যা সমাধানে সহায়তা করতে চান বলেই প্রথম দিনের শুনানি থেকেই সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আসছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন বয়ান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন কমিটির চেয়ারপার্সন সিনেটর তৃতীয় তেওফিস্তো গুয়িনগোনা। আগের শুনানিগুলোতে ওই দম্পতি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ দম্পতি শপথের আওতায় আছেন মনে করিয়ে দিয়ে গুয়িনগোনা বলেন ‘মনে হচ্ছে আমাদেরকে বোকা বানানো হচ্ছে।’

তবে সে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বাউতিস্তা বলেন, ’১৮ বছর ধরে আমরা এ ব্যবসায় আছি। মর্যাদা আর বিশ্বাস আমাদের একমাত্র সম্বল। আপনারা আমাদের প্রতারক বলতে পারেন না।’

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির শুনানিতে মঙ্গলবার দুই উল্লেখযোগ্য অভিযুক্ত আরসিবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মারিয়া সান্তোস দিগুইতো ও ব্যবসায়ী কিম অং-ও প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। সিনেট কমিটির প্রথম দুটি শুনানিতে দিগুইতো তার জবানবন্দি দিলেও গত ২৯ মার্চ সিনেটে কিম অং হাজির হওয়ার পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। মঙ্গলবারই প্রথমবারের মতো তারা একে অপরের মুখোমুখি হন।

শুনানিতে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা রাখা একটি বিবৃতি পড়ে শোনান দিগুইতো। তিনি সে সময অভিযোগ করে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রভাবশালী লোকজন অর্থ পাচারের সব দায় আমার ওপর দিচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন, ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আমার মতো মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকা কারও পক্ষে কোটি কোটি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধ সংঘটিত করা সহজ ব্যাপার। সত্যি কথা বলতে গেলে বড় বড় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ হয় না। কারণ এসব ব্যবসায়ীর বিভিন্ন দেশে প্রভাব থাকে।’

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ