১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন হাতুরেসিংহে!

বাংলাদেশে হাতুরেসিংহের অধ্যায় শেষ হতে পারত ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের ইবপক্ষে সিরিজের মধ্য দিয়েই। কারন ঐ সিরিজের পরই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন হাতুরেসিংহে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিসিবি তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে রেখে দিতে সক্ষম হয়।

শ্রীলঙ্কা দলের অবস্থা এখন নাজুক। অন্যদিকে হাতুরেসিংহে নিজেই শ্রীলঙ্কান। সুযোগ পেলে শ্রীলঙ্কাকে কোচিং করাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। আর সেই সুযোগটাই নিতে চেয়েছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। কোচের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল
হাতুরেসিংহেকে।

হাতুরেসিংহে আর বিসিবির মধ্যে বর্তমান চুক্তি ২০১৯ সাল পর্যন্ত। তবে চুক্তিতে উল্লেখ আছে তিন মাসের নোটিশ দিয়ে যেকোন পক্ষ বেড়িয়ে যেতে পারবে চুক্তি থেকে। আর সেটাই করেছিলেন হাতুরেসিংহে।

গত বছরের ৮ আগস্ট বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রে হাতুরাসিংহে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। সরে যেতে চাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানোর আগে বিসিবি সভাপতিকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে হাতুরাসিংহে পদত্যাগপত্রে এ-ও লিখেছিলেন, ‘হেড কোচ হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনকালে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানকে। যা ভূমিকা রেখেছিল আমার নিজের সেরাটা দেওয়ার ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে যা খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়া পারফরম্যান্সের পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছিল। ’

এরপরই বাংলাদেশের কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে নিজ সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে আমি অপারগ। অনেক চিন্তাভাবনার পর তাই বিসিবির প্রধান কোচের পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা কার্যকর হবে ৮ নভেম্বর ২০১৬ থেকে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট এক চিঠির মাধ্যমে বিসিবির প্রধান নির্বাহী তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে ২০১৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলসংক্রান্ত কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা আপনার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। এ অবস্থায় আপনার অনুপস্থিতি কিংবা দায়িত্ব পালনে অপারগতা আমাদের ব্যাপকভাবে লক্ষ্যচ্যুত করবে এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নকেও ব্যাহত করবে। এসব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থেই বোর্ড আপনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে পারছে না।

এরপর দু পক্ষের আলোচনায় বাংলাদেশের থেকে গিয়েছিলেন হাতুরেসিংহে। প্রায় ২৮ হাজার ডলার বেতনের চুক্তিতে রাখা হযেছিল তখন হাতুরেসিংহেকে। তৎকালীন শ্রীলঙ্কান কোচও বেতন পেতেন এই অংকের কাছাকাছি। তারপর থেকেই চলছে বাংলাদেশে হাতুরে সিংহে অধ্যায়।

তবে বাংলাদেশের এমন সফল কোচকে যে শ্রীলঙ্কা পেতে চাইবে না নতুন করে তার কি বিশ্বাষ আছে। হয়তো আরো ভালো কোন অফারও করতে পারে তারা। চুক্তিতে তিনমাসের নোটিশের ব্যাপার যেহেতু আছে, ঘটতে পারে যেকোন কিছুই।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ