নয়াপল্টনে জাসাসের অনুষ্ঠানস্থলে বেগম জিয়া

বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান তিনি। এ সময় মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানে স্লোগানে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মীরা

দুপুর আড়াইটার দিকে জাসাসের বর্ষবরণের এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আমরা আশা করি, নতুন বছরে আমরা গণতন্ত্র ফিরে পাব। উন্নয়ন হবে, শান্তি আসবে, হত্যা-গুম-নির্যাতন থেকে মানুষ মুক্ত হবে। দেশে প্রতিটি মানুষের দাবি প্রতিষ্ঠিত হবে।

“আসুন, এই নববর্ষে আমরা শপথ নেই- ভেদাভেদ নয়, ঐক্যের মাধ্যমে জাতিকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাবে।”

বঙ্গাব্দ ১৪২৩ বরণ উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা- জাসাস এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে জাসাস শিল্পীরা বর্ষবরণের নানা গান পরিবেশন করেন। শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত ও পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর ‘এসো হে বৈশাখ’ গান শোনান তারা।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ভিড় ডিঙিয়ে নয়া পল্টন কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। নিরাপত্তাকর্মীদের তার গাড়িবহর মঞ্চের কাছে নিতে বেগ পেতে হয়।

ক্রিম কালারের লাল পাড়ের সুতির শাড়ি পরা খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে সেখানে সমবেত হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হাত নেড়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের আগমন উপলক্ষে দুপুর থেকেই নয়া পল্টন কার্যালয়ের সড়ক নেতা-কর্মীদের সমাবেশে পরিণত হয়।

জাসাসের বর্ষবরণের এ অনুষ্ঠানে বেবী নাজনীনের পাশাপাশি হাসান চৌধুরী, পিয়াল হাসান, মনির খান, পলি শারমীন ‍শুভ্র আসাদ, শাহজদি কোহিনুর পাঁপড়ি, মুন, রেখাসহ সংগঠনের শিল্পীরা ভাটিয়ালী, দেশাত্মকবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের গান পরিবেশন করেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দলের নেতা-কর্মী, দেশবাসী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান খালেদা জিয়া।

‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে’ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, আমরা সকলে হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

“আমারা অনেক দুঃখ, অনেক হাসি, অনেক যন্ত্রণা ভোগ করছি। আসুন, এসব দুঃখ-যন্ত্রণা ভুলে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য আমরা সকলে মিলে এগিয়ে যাই। নিশ্চয়ই আমাদের সফলতা আসবে।”

একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা বলেন, “ভাষা শহীদরা ভাষার জন্য যেভাবে রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন, সারা বিশ্বে আজ বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

“ঠিক এমনিভাবে এই নববর্ষে বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীর বুকে শান্তি উন্নয়ন কল্যাণের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব ইনশাল্লাহ।” পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান করার জন্য এসময় জাসাস নেতাদের ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য রাখেন।

বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বিএনপি শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স,  অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

বর্ষবরণের এই অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে জনস্রোত।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে জাসাস সভাপতি এম এ মালেক সভাপতিত্ব করছেন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মনির খান।

সর্বশেষ আপডেট পেতে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ