ম্যাচ হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে ভাংচুর চালিয়েছিল আরামবাগ ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও সমর্থকরা। ঘটনার পর বাফুফের মামলায় ইতোমধ্যে ক্লাবটি থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচ হেরে যাওয়ায় ক্লাবটি এই ঘটনা ঘটায়। আর আজ বৃহস্পতিবার সভা করে আরামবাগকে চ্যাম্পিয়ন লিগ থেকে বহিষ্কার করল বাফুফে।
ঘটনার সূত্রপাত কমলাপুর মাঠে। বাংলাদেশের পুলিশের বিপক্ষে ওই ম্যাচে আরামবাগ হেরে যায় ৩-২ গোলে। আর তাতেই ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথে ম্যাচ রেফারির ওপর চড়াও হয়। পরে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আসলে সমর্থকদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বাফুফে ভবনের নিচতলার বাইরের গ্লাসসহ দ্বিতীয় তলায় সভাপতির কক্ষ, বোর্ডকক্ষ ও চতুর্থ তলায় ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ফলে ওইদিনই লিগ বন্ধ করে দেয় বাফুফে। পরে বুধবার এই ভাংচুরের ঘটনায়, বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৪৯/৪৪৩/৪২৭/৩৪ ধারায় অজ্ঞাত নামা ১৫০-২০০ জনকে আসামী করে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করে বাফুফে।
ইতোমধ্যেই মামলা দায়ের করার পর আরামবাগ ক্লাব থেকে অজ্ঞাত নামা ২৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাদের আদালতে চালান করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি পুরণ দাবী করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। হামলার পর পরই রাতে আরামবাগ ফুটবল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এজাজ বাফুফে ভবনে এসে ক্ষমা চান।
হামলার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ এক সংবাদসম্মেলনে জানান, ‘হামলার পরই বাফুফ ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করতে আগামী কয়েক দিনের জন্য অধিক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনর ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশ পুলিশের কাছে আবেদন করেছি। আর ভবিষ্যতের স্থায়ী নিরাপত্তার জন্য বাফুফে ভবনে নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানো সহ পুরো চত্ত্বর সিসি ক্যামেররা আওতায় নিয়ে আসার কথা ভাবছি।’
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার নির্বাহী কমিটির মিটিং ডাকে বাফুফে। মিটিংয়ে চ্যাম্পিয়ন লিগ থেকে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন।






















