গত শনিবার ভারতের গুরগাওয়ে চলতি বছরের ‘চীন-ভারত ইন্টারনেট সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়। চীন ও ভারতের বিভিন্ন ইন্টারনেট শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা ইন্টারনেট খাতে দু’দেশের সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা ও সুযোগ নিয়ে সংলাপে আলোচনা করেন। এসময় ‘চীন-ভারত ইন্টারনেট শিল্প সহযোগিতা সংস্থা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও তোলা হয়।
সংলাপে ইলেক্ট্রনিক পণ্যের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের সহযোগিতার সুযোগ, চীনের ইন্টারনেট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগের জন্য কেন ভারতকে বাছাই করেছে, ভারতের বিনিয়োগপরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। চিতাহ মোবাইল কোম্পানি, শেয়ার’ইট কোম্পানি, ইনভেনো কোম্পানি, ফোসান মূলধন গ্রুপ, এমপাওয়ার বিনিয়োগ কোম্পানি, সেকুওইয়া মূলধন ভারত কোম্পানি সহ ইন্টারনেট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের ১০০টিরও বেশি উদ্যোক্তা গ্রুপ নিজ নিজ প্রকল্প এখানে উপস্থাপন করে।
ভারতে চীনা দূতাবাসের অস্থায়ী রাষ্ট্রদূত লিউ চিন সোং সংলাপে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার ভাষণে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার আওতা ধাপে ধাপে বেড়েছে। এর মধ্যে ইন্টারনেট এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিল্প খাতে সহযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি এ খাতের ভবিষ্যত সম্ভাবনাও বিশাল। তিনি মনে করেন, ইন্টারনেট দু’দেশের ভবিষ্যত বিনিময়ের প্রধান খাত হবে এবং পরবর্তী কালে চীন ও ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার অপরিহার্য অংশে পরিণত হবে।
চীনের আলিবাবা গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট শি তোং ওয়েই, ভারতের স্ন্যাপডিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিকাস বাঙ্গা তাদের ভাষণে বলেন, ইন্টারনেট খাতে দু’দেশের সম্ভাবনাই বিশাল। দু’দেশের সকল উদ্যোক্তা ও শিল্পপতির সামনেই সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সুযোগ।
স্ন্যাপডিল, ইভিসি, চিতাহ মোবাইল কোম্পানি, শেয়ার’ইট কোম্পানিসহ সাতটি প্রতিষ্ঠান এ সম্মেলনে ‘চীন-ভারত ইন্টারনেট শিল্পের সহযোগিতা সংস্থা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করে। তাদের যুক্তি, এ সংস্থা গঠিত হলে এ খাতে সম্পদের সুবিন্যাস সম্ভব হবে এবং দু’দেশের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
চীন ও ভারতের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, ইন্টারনেট ক্ষেত্রেও চীন বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের ইন্টারনেট বাজার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। এ খাতে দু’দেশের সহযোগিতার অভিন্ন ভিত্তিও আছে।
আশা করা হচ্ছে, প্রস্তাবিত ‘চীন-ভারত ইন্টারনেট শিল্প সহযোগিতা সংস্থা’ দু’দেশের ইন্টারনেট খাতের আরও বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করবে, শিল্প সহযোগিতাবিষয়ক নির্দেশনা কমিটি প্রতিষ্ঠা করবে, এবং বিভিন্ন সহযোগিতা পরিকল্পনা করবে। সংস্থাটি প্রতিবছর চীন ও ভারতে ইন্টারনেট সংলাপ সম্মেলনের আয়োজনও করবে।
চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বেইজিংয়ে চলতি বছরের দ্বিতীয় ‘চীন-ভারত ইন্টারনেট সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা যায়, এসব সংলাপ ইন্টারেট খাতে বরাবরের মতোই দুটি বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশকে আরও কাছাকাছি আসতে সাহায্য করবে।
























