২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাকাতুয়া কোটি ডলারের তার খেয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় !

টারনেট গতির দিক দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান হচ্ছে বিশ্বে ৫০তম। অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট-গতি, যা কিনা বর্তমানে অন্যান্য উন্নত দেশের চেয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১১.১ মেগাবিট কম, সেটি বাড়ানোর জন্য একটি জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে – যা ২০২১ সাল নাগাদ সমাপ্ত হবে।

এদিকে কাকাতুয়ার কারণে দেশটির কয়েক কোটি ডলারের ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক হুমকির মধ্যে পড়েছে। প্রকৌশলীরা প্রকল্পের স্থানে ফিরে গিয়ে দেখছে ক্যাবলগুলোকে নানা রকম পাখি কামড়িয়েছে এবং তাতে এগুলো ক্ষয় হয়ে গেছে।

ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক (এনবিএন) কোম্পানি বলছে কাকাতুয়ার কামড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবল বা তারগুলো ঠিক করার জন্য তাদের ইতোমধ্যে কয়েক লাখ ডলার খরচ করতে হয়েছে। এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে কাকাতুয়াকে।

এগুলো এক ধরণের টিয়াপাখি যারা ফলমুল, বাদাম, কাঠ এবং বাকল খেয়ে থাকে। এনবিএনকে প্রতিবার পাওয়ার এবং ফাইবার ক্যাবল পরিবর্তন করার জন্য কয়েক লাখ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। তারা বলছে যে, এখন পর্যন্ত তাদের আশি হাজার  অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ হয়েছে।

গত শুক্রবার কোম্পানির ওয়েবসাইটে একটি লেখায় সহ-প্রকল্প ব্যাবস্থাপক শেড্রিয়ান ব্রেসল্যান্ড বলেন, “এই পাখিগুলো যখন ঝাঁক বেধে আসে, তখন এগুলোকে থামানো কঠিন হয়ে যায়।”

“আমার মনে হয় এটাই অস্ট্রেলিয়া। এখানে মাকড়শা এবং সাপের হাত থেকে রক্ষা পেলেও কাকাতুয়ার কবল থেকে রেহাই পাবেন না।”

কোম্পানিটি বলছে যে তারা ক্যাবলগুলোর জন্য বর্তমানে একধরণের প্রতিরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করছে যেগুলোর প্রতিটির দাম ১৪ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কিন্তু ভবিষ্যতে এগুলো তাদের তিনশ কোটি ডলারের নেটওয়ার্ককে রক্ষা করবে।

প্রাণী আচরণবিদ জিসেলা কাপলান রয়টার্সকে বলেন, “ক্যাবল খাওয়ার জন্য পাখিদের এক ধরণের রুচি তৈরি হয়ে যেতে পারে। এটা তাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়”।

তিনি মনে করছেন ক্যাবলগুলোর রঙ বা অবস্থান পাখিগুলোকে আকৃষ্ট করতে পারে। তারা তাদের ঠোঁটগুলো ক্রমাগত ধারালো করছে এবং এর ফলে তাদের সামনে যাই আসে তাতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে সব ছিঁড়ে ফেলে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে আমরা ক্যাবলগুলোর প্রতি তাদের এক ধরণের আসক্তি তৈরি করে ফেলেছি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ