কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দেশে দেশে প্রায়ই অর্থনৈতিক বা কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বদলে গেছে ধরন। বেড়েছে পরিসর। কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তির অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠছে তথ্য-প্রযুক্তি। নজরদারি করা হচ্ছে কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে। হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত।
কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তির ভিন্নতায় নাটকীয়তা বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দুইটি সফটওয়্যার কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার কোম্পানি অ্যাপিয়ানকে দুইশ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় একটি জুরি বোর্ড। এর আগে ওই কোম্পানিটি ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক পেগাসিস্টেমের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ আনে। অভিযুক্ত কোম্পানিটি এজন্য একটি গ্রুপকে ভাড়া করেছিল। ওই রায়ের পর পেগাসিস্টেমের শেয়ারে ধস নামে।
ব্যবসায়িক গুপ্তচরবৃত্তিতে এখন আগ্রহ বেড়েছে। বিপরীতে এটি প্রতিরোধেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন কেবল বড় বড় কোম্পানি যেমন প্রতিরক্ষা ও ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতেই গুপ্তচরবৃত্তি হয় না। ছোট ছোট কোম্পানিতেও হয়। চুরি করা হচ্ছে কৃষি ও শিক্ষার তথ্যও। ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ঝুঁকি বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তি এখন স্বর্ণ যুগে প্রবেশ করছে।
এমন পরিস্থিতির জন্য দুইটি কারণ রয়েছে। অধরা অর্থনীতির অপ্রতিরোধ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ব্যবসার মুদ্রা হয়ে উঠছে। দ্বিতীয়ত, অনলাইনে হ্যাকারদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি একটি কোম্পানির ব্যাপক ক্ষতি করে। অনেক সময় এসব তথ্য চুরি করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা হয়। অনলাইন দুনিয়ার ডিজিটাল ভল্টে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ নিরাপদে রাখা অনেক কঠিন হতে পারে।
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির কথা মাথায় এলে অনেকেই এর কপিরাইট নিয়ে ভাবতে শুরু করে। কপিরাইটের স্বত্ব বা লাইসেন্স পেলে অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকি এড়ানো যায়। তবে এটা অনেক কঠিন, বিশেষ করে আমেরিকায়।
কোম্পানিগুলোর জন্য আশার খবর হলো বাণিজ্য গোপনীয়তার জন্য আইনি সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসার গোপনীয়তা রক্ষায় আইন হয়েছে। এতে সেখানের কোম্পানিগুলো আগের থেকে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছে। তাই কোম্পানির গোপনীয়তা রক্ষায় প্রত্যেক দেশে যথাযথ আইন ও বাস্তবায়ন থাকা উচিত।
তবে হতাশার কথা হলো গোপনীয়তা রক্ষায় অনেক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা যথাযথ নয়। ভালো ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোম্পানির গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব নাও হতে পারে।
শিল্প বা কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তি প্রায়ই সংস্থা বা কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে ঘটে। তাছাড়া সরকার বা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও হয়। অর্থাৎ প্রতিযোগীরা একে অন্যর ওপর নজরদারি বা তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুপ্তচরবৃত্তির পন্থা অবলম্বন করে।
অর্থনৈতিক বা শিল্প গুপ্তচরবৃত্তি প্রধানত দুইভাবে গঠিত হয়। গুপ্তচরবৃত্তিটির উদ্দেশ্য হলো এক বা একাধিক সংস্থা সম্পর্কে জ্ঞান সংগ্রহ করা। এর মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি যেমন শিল্প উত্পাদন সম্পর্কিত তথ্য, ধারণা, কৌশল ও প্রক্রিয়াসহ গ্রাহক ডেটাসেট, মূল্য নির্ধারণ, বিক্রয়, বিপণন, গবেষণা ও উন্নয়ন, নীতিমালা, সম্ভাব্য বিড, পরিকল্পনা বা বিপণনের কৌশল দখলে নেওয়া হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বাণিজ্যের গোপন বিষয় চুরি, ঘুষ, ব্ল্যাকমেল ও প্রযুক্তিগত নজরদারি।
























