চীনের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে একমত হতে পারেনি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১০টি দ্বীপরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার (৩০ মে) এক ভাচুর্য়াল বৈঠকে চীনের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ঐ অঞ্চলের ১০ দ্বীপরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আলজাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, চীনের প্রস্তাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে— এমন আশঙ্কার মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছে দেশগুলো।
এর পরই ফিজিতে অবস্থানরত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ঐ অঞ্চলে চীনের উদ্দেশ্য নিয়ে দেশগুলোকে আশ্বস্ত করার জন্য বলেছে, এশিয়া, আফ্রিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের অনেক উন্নয়নশীল দেশে চীন কাজ করছে। চীন ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অর্থ হলো—বৃহৎ ঐক্য, বৃহৎ ন্যায়বিচার এবং সমগ্র বিশ্বের বৃহত্তর সমৃদ্ধি। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে বর্তমানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ঐ অঞ্চলে সফরে রয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে চীনের আগ্রহে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভাচুর্য়াল বৈঠকের আগে চীন আমন্ত্রিত দেশগুলোতে একটি খসড়া যৌথ ঘোষণা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কর্ম পরিকল্পনা পাঠায়। যেখানে স্থানীয় পুলিশকে প্রশিক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তায় আরো যুক্ত হওয়া, রাজনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং স্থল ও জলসীমার প্রাকৃতিক সম্পদে আরো বেশি প্রবেশাধিকার বিষয়গুলো যুক্ত ছিল।
খবরে বলা হয়েছে, চীনের খসড়া প্রস্তাবের বিষয়টি অন্তত একটি দেশ বিরোধিতা করেছে। সেটি হলো—ফেডেরেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়া। রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড পানুয়েলো বলেন, আমাদের জীবদ্দশায় এই অঞ্চলে এটি একটি ‘গেম চেঞ্জিং’ চুক্তির প্রস্তাব। যা নতুন স্নায়ুযুদ্ধের হুমকি তৈরি করতে পারে।
খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া আরো কয়েকটি দেশ এই খসড়া প্রস্তাবে আপত্তি বা সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়েছিল। সামোয়া, টোঙ্গা, কিরিবাতি, পাপুয়া নিউগিনি, ভানুয়াতু, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, নিউই দেশের প্রতিনিধিরা এবং চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন পূর্ণ মতৈক্যে পৌঁছতে আরো আলোচনা দরকার। তবে নিরাপত্তা ইস্যু ছাড়া তারা পাঁচটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। প্রসঙ্গত, চীন গত মাসে সলোমান দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করেছে। চীন তা আঞ্চলিক পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। চীনের এক জোর প্রচেষ্টা ও চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তির আঞ্চলিক প্রভাব অনেক। এই চুক্তির ফলে চীনের সামরিক বাহিনী অস্ট্রেলিয়ার অনেক কাছে চলে আসতে পারে।
























