১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘রোহিঙ্গা সেল’ গঠন করেছে সরকার

মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতনের শিকার হয়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘রোহিঙ্গা সেল’ গঠন করেছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অধীনে এ সেল গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত গত ৫ সেপ্টেম্বরের আদেশটি রোববার প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সহিংসতা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপার হতে বাংলাদেশে ভূ-খণ্ডে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের কারণে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলাসহ সন্নিহিত সীমান্তবর্তী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সুবিধার্থে রোহিঙ্গা সেল গঠন করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, পুশব্যাক সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে সেল। সম্প্রতি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের শুমারি (বায়োমেট্রিকসহ) ও সর্বশেষ অগ্রগতি, সন্নিহিত সীমান্তবর্তী এলাকায় সর্বশেষ পরিস্থিতি, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করবে।

সেলের কার্যপরিধিতে আরও বলা হয়েছে, চিহ্নিত ও নির্ধারিত স্থানের মধ্যে রোহিঙ্গাদের অবস্থান সীমাবদ্ধ রাখা সম্পর্কিত গৃহীত সর্বশেষ ব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গাদের আবাসন ও মানবিক সহায়তা দেওয়া সংক্রান্ত কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে সেলকে।

এছাড়া মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কিত অগ্রগতি, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ অংশে বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সফর সম্পর্কিত তথ্যাদি এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্যাদিও রোহিঙ্গা সেল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে।

জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) মো. সামছুর রহমান সেলের প্রধান সমন্বয়ক এবং যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-২) মো. শফিকুর রহমান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সেলে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে থাকবেন উপসচিব (রাজনৈতিক-১) আবু হেনা মোস্তফা জামান। উপসচিব (রাজনৈতিক-২) মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান প্রথম বিকল্প কর্মকর্তা ও উপসচিব (সীমান্ত-৩) মনির হোসেন চৌধুরী দ্বিতীয় বিকল্প কর্মকর্তা হিসবে সেলে দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে রাখাইনে কয়েকটি পুলিশ পোস্ট ও সেনাঘাঁটিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও ব্যাপক নির্যাতন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে মারা যান কয়েকশ রোহিঙ্গা।
এ অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এরইমধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তিন লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা। এই প্রেক্ষাপটে ‘রোহিঙ্গা সেল’ গঠন করলো বাংলাদেশ সরকার।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ