ঈদ বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ, ৭০টি গার্মেন্টস কারখানা চিহ্নিত

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আসন্ন ঈদে বেতনের পাশাপাশি বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে এ ধরণের ৭০টি গার্মেন্টস কারখানা চিহ্নিত করেছে শিল্প পুলিশ। এর মধ্যে বিজিএমইএ’র সদস্যভূক্ত গার্মেন্টসের সংখ্যা ৫৯টি। এ অবস্থায় শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের জন্য বিজিএমইএ’কে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

চট্টগ্রামে ছোট-বড় ৯শ’ গার্মেন্টসের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে পুরোদমে উৎপাদনে রয়েছে মাত্র ৬শ’ ৩০টি কারখানা। যেখানে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। নানা দুর্ঘটনার কারণে গার্মেন্টসগুলোর সমস্যা কাটছে না। আর বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন এবং রাস্তা অবরোধ তো রয়েছেই। প্রতি বছর ঈদের আগে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। তাই এবার একটু আগেভাগে সমস্যা আক্রান্ত গার্মেন্টসগুলো চিহ্নিত করেছে শিল্প পুলিশ। চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প পুলিশের পরিচালক তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, ‘যেসব গার্মেন্টস ২ থেকে ৩ বার বেতন নিয়ে সমস্যা করেছে সেসব গার্মেন্টস চিহ্নিত করা হয়েছে।’

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে এ ধরণের ৭০টি গার্মেন্টসের মধ্যে ৫৯টি বিজিএমইএ এবং ৪টি বিকেএমইএ সদস্যভূক্ত। এ অবস্থায় ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। সিএমপি পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল বলেন, ‘সকল গার্মেন্টস এর মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। আর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে তারা ১৫ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।’

তবে বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলছেন, ‘শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে মালিকদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।’ চিহ্নিত ৭০টি গার্মেন্টস কারখানায় অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। আর শ্রমিক সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে ১০টি মনিটরিং টিম।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ