৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমি সেই গ্রান্ডমাস্টার নই : আমি দাবা খেলার ঘুঁটি মাত্র-মায়া সান্তোস

“আমি ছিলাম দাবা খেলার ঘুঁটি মাত্র। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং আর বড় পুঁজির রাঘব-বোয়ালরা এই খেলার পেছনে আছে। এই কমিটি যাকে খুঁজছেন আমি সেই গ্রান্ডমাস্টার নই।”বাংলাদেশ ব্যাংকের কোটি কোটি ডলার ফিলিপাইনের যে ব্যাংকের মাধ্যমে জালিয়াতরা তুলে নেয়, সেই ব্যাংকের ম্যানেজার মায়া সান্তোস ডেগুইতো জেরার মুখে একথা বলেছেন সেনেটরদের। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাঁকে উদ্ধৃত করে এখবর জানিয়েছে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিলিপাইনের সেনেটররা এই বিরাট কেলেংকারি নিয়ে তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার ম্যানিলায় সেনেটররা আবারও জেরা করেছেন ব্যাংক ম্যানেজার মায়া ডেগুইতোকে।ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের একটি ব্রাঞ্চের চারটি একাউন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার তোলা হয়েছিল। এই প্রত্যেকটি একাউন্ট খোলা হয়েছিল পাঁচশো ডলার দিয়ে। একাউন্ট খোলার পর এক বছর পর্যন্ত এগুলো ইন এক্টিভ ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ এসব একাউন্টে ট্রান্সফার হওয়ার পর সেখান থেকে তা চলে যায় ফরেন এক্সচেঞ্জ ব্রোকারের হাত ঘুরে বিভিন্ন জায়গায়।সেনেটের জেরার মুখে মায়া ডেগুইতা কারও নাম উল্লেখ না করে আরসিবিসি ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তাদের এই ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, কয়েকটি দেশে বিরাট ক্ষমতা এবং প্রভাব আছে এমন এক বিরাট বিত্তশালী ব্যবসায়ী এর পেছনে আছেন, যার সঙ্গে আরসিবিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছিল।তবে এর আগে সেনেটের আগের এক শুনানিতে আরসিবিসি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং আইনজীবী এর দায় অস্বীকার করে মায়া ডেগুইতার ওপরই দায় চাপিয়েছিলেন।এই তদন্তের সূত্র ধরে ইতোমধ্যে ফিলিপাইন এক ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম ওয়াং এর কাছ থেকে ৫৫ লাখ ডলার উদ্ধার করেছে।সেনেটের এক কমিটিতে এ নিয়ে শুনানির পর সেনেটর র‍্যালফ রেকটো জানিয়েছেন, তারা সন্দেহ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমে হ্যাকিং এর পেছনে ছিল সম্ভবত কোন চীনা হ্যাকার।“আমাদের মনে হচ্ছে এরা ফিলিপিনো হ্যাকার ছিল না। সম্ভবত এরা চীনা হ্যাকার। এরা ফিলিপিাইনের ব্যাংকিং সিস্টেম বা কোন একটা ব্যাংকের মধ্যে দুর্বলতা দেখতে পেয়ে তার সুযোগ নিয়েছে।”

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ