২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুদের টাকার জন্যে লাশ দাফনে বাধা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া গ্রামে সুদের টাকরে জন্যে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে আওয়ামী লীগ নেতা নূর মোহাম্মদ তালুকদারের (৮২) লাশ নির্ধারিত সময়ের ১০ ঘণ্টা পর ১১ জানুয়ারি শনিবার বিকালে পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে দাফন করা হয়। ১০ জানুয়ারি শুক্রবার ভোর রাতে বরিশালে এক আত্মীয়ের বাসায় তিনি মারা যান। নূর মোহাম্মদ রাজিহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদারের চাচা। নূর মোহাম্মদ তালুকদারের বড় ছেলে বাবুল তালুকদার বলেন, তার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নন্দনপট্টি গ্রামের জব্বার বেপারীর ছেলে আলী হোসেন বেপারী, একই গ্রামের হান্নান ঘরামীর ছেলে শাহীন ঘরামী ও বাঙ্গিলা গ্রামের জব্বার বেপারীর ছেলে খোকন বেপারী তাদের বাড়িতে এসে দাফনে বাধা দেন। পাওনা টাকা পরিশোধ করে তারপর লাশ দাফন করার হুমকি দেন তারা। বাবার লাশ দাফনের পর রাতে অন্য ভাই-বোনদের নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করার কথা জানালে সুদি (সুদের) মহাজনেরা টাকা না দিলে দাফন করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। সুদসহ টাকা পরিশোধ করতে না পারায় শনিবার সকালে দাফন করতে পারিনি। বাবুল বলেন, ‘সুদের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আমার বোন দোলন সাত বছর আগে স্ট্যাম্প দিয়ে সুদে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। কিছু দিন পর আমার বোন বিদেশ চলে যান। বোনের ধার করা টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে বাবা গত পাঁচ বছরে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তারপরও ওই তিন সুদি মহাজন মৌখিকভাবে শনিবার দাফনের আগে আমার কাছে বাবার পাওনা হিসেবে আরও ১৩ লাখ টাকা দাবি করেন। বাবুল জানান, ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও তিন সুদি মহাজন ৩৩ লাখ টাকা দাবি করে তিনটি মামলা দায়ের করেন। একটিতে তার বাবা আদালতের রায় পান। পরে তার বাবা নূর মোহাম্মদ সুদি মহাজনদের বিরুদ্ধে স্ট্যাম্প উদ্ধারের মামলা করেন, যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, সুদের টাকার কারণে দাফনে বাধা দেওয়ায় নূর মোহাম্মদ তালুকদারের ছেলে লিটন তালুকদার মোবাইলফোনে জানালে এসআই জামাল হোসেনকে ওই গ্রামে পাঠাই। বিষয়টি অমানবিক দাবি করে ওসি বলেন, ‘টাকা-পয়সার লেনদেন থাকতেই পারে, তা পরিশোধ বা আদায়েরও অনেক ব্যবস্থা আছে। তার জন্য লাশ দাফনে বাধা দেওয়া একটি বর্বরোচিত ঘটনা। তবে পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মীমাংসা করার পর মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য সুদ ব্যবসায়ী খোকন বেপারীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। বাকি দুজনের মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়নি। নূর মোহাম্মদ তালুকদারের ভাতিজা আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদার বলেন, ‘তার ছেলেমেয়েদের এ বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরাও তাদের সহযোগিতা করবো।’

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ