যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোন ধরনের হুমকি সৃষ্টি করলে উত্তর কোরিয়াকে ছারখার করে দেয়া হবে- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মাথায় মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন গুয়াম দ্বীপপুঞ্জে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়, গুয়ামের যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বোমারু বিমান মোতায়েন রয়েছে সেখানেই হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পিয়ংইয়ংয়ের এ-হুমকি কোরিয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে বলে মন্তব্য করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এদিকে, ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে চীন।
সোমবার, ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে, উত্তর কোরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো তার দেশের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন। নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় উত্তর কোরিয়া।
পিয়ংইয়ংয়ের সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে আর কোন বক্তব্য দিলে কিংবা হুমকিমূলক কোন পদক্ষেপ নিলে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্রোধের আগুনে ছারখার হয়ে যাবে। দেরিতে হলেও বিশ্ব সম্প্রদায় উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করবো উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে আর কোন হুমকি দেবে না। যদি তারা আবারও এ ধরনের কোন বক্তব্য দেয়, তবে তাদেরকে ছারখার করে দেয়া হবে। তাদেরকে এমন দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে, যা বিশ্ববাসী আগে কখনও দেখেনি।’
ট্রাম্পের এমন হুমকির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন গুয়াম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। বুধবার, দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, গুয়ামের যে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত বোমারু বিমান মোতায়েন রেখেছে, সেখানেই প্রথম মাঝারি থেকে দূর পাল্লার রকেট হামলার পরিকল্পনা করছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন নির্দেশ দেয়া মাত্র এ হামলা চালানো হবে বলেও ওই খবরে জানানো হয়।
উত্তর কোরিয়ার এমন হুমকি কোরীয় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে এবং তা দুই কোরিয়ার সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছে সিউল। এর আগে মঙ্গলবার, দক্ষিণ কোরীয় পুনরেকত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, উত্তর কোরিয়ার যে কোন হুমকি মোকাবিলায় তাদের সামরিক বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া যেভাবে একের পর এক হুমকি দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে, তা দুই কোরিয়ার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারপরও আমি বলতে চাই, দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের স্বার্থে সবসময়ই চেষ্টা চালিয়ে যাবে।’
এদিকে, উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকরে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে চীন। মঙ্গলবার, আশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে দেয়া এক বক্তব্য তিনি বলেন, দুইদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা চিন্তা করলে, বেইজিংই এ ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারপরও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধ কার্যকরে বেইজিং উদ্যোগ গ্রহণ করতে পিছপা হবেনা।
























