১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন শফিক রেহমান

শফিক রেহমানের জামিনঃআদালতের নামঞ্জুর

২০১২ সালে জাসাস নেতা ও তার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন শফিক , এমনটায় জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্র মামলা তদন্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিবির উপকমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ। অপর দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত উপকমিশনার রাজীব আল মাসুদ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত।

মঙ্গলবার  ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, জয়কে হত্যাচেষ্টা ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে বৈঠক এবং অর্থ লেনদেনের কথা রিমান্ডে স্বীকার করেছেন সাংবাদিক শফিক রেহমান।আজ দুপুরে শফিক রেহমানের বাসায় তল্লাশি করা হয়েছে। সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

রিমান্ডে শফিক রেহমান যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত রিজভী আহমেদ সিজার, এফবিআই এজেন্ট রবার্ট লাস্টিক এবং এই দুজনের মধ্যস্ততাকারী লাস্টিকের বন্ধু জোহানেস থালের সঙ্গে বৈঠকের কথা তিনি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ২০১২ সালে জাসাস নেতা ও তার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন শফিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে নানান তথ্যও বিভিন্ন সময় সংগ্রহ করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়ার পর তার বাসা থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বৈঠকসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখছেন। তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাচ্ছে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় হত্যাচেষ্টায় টাকা পয়সা দেওয়া নেওয়ার বিষয়েও তথ্য পেয়েছ। কত এবং কিভাবে সে অর্থ লেনদেনের কথা হয়েছে তা আমরা তদন্ত করছি।

তবে রিজভী আহমেদ সিজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে এ বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য জানা যাবে। অপর প্রশ্নের জবাবে উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপির আরও একজন নেতার নাম উঠে এসেছে। তিনি শফিক রেহমানকে বৈঠকের জায়গাটি ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালের আগস্টে মামলা হলেও তদন্ত এগোতে পারেনি। কারণ বেশ কিছু দলিল দস্তাবেজ আমাদের হাতে ছিল না। সেগুলো আমাদের এলে তদন্তের পর পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এ ছাড়া এ পরিকল্পনায় লন্ডনেরও কোনো যোগাযোগ আছে কিনা তাও আমরা খতিয়ে দেখছি, বলেন তিনি। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে নেওয়া হলে তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ