জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন এস এম হোসেন জগলুল পাশা। আর দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন যুবদলের নেতা ও জগলুলের ছোট ভাই এস এম হোসেন জাফরিন পাশা।
ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মার্চ মহেশপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মান্দারবাড়িয়া ইউপিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছয়জন। আওয়ামী লীগের আমিনুর রহমান, বিদ্রোহী প্রার্থী শফিদুল ইসলাম, বিএনপির এস এম হোসেন জগলুল পাশা, তাঁর ছোট ভাই দলের বিদ্রোহী এস এম হোসেন জাফরিন পাশা, জাতীয় পার্টির সেলিম রেজা ও জামায়াত-সমর্থিত আবদুল মান্নান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ মার্চ।
এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগলুল পাশার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাঁর ভাই জাফরিন পাশা। জগলুল পাশা মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান। জাফরিন পাশা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। দুই ভাই একই দলের হলেও কেউ কাউকে ছাড় দিতে ইচ্ছুক নন। এ কারণে এক ভাই আরেক ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন।
আনিচুর রহমান নামের এক ভোটার বলেন, ‘একই দলের সঙ্গে যুক্ত দুই ভাই নির্বাচন করছেন। আমরা দলকে সমর্থন করি। দলীয় প্রার্থীকেই ভোট দেব বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু একই দলের দুই প্রার্থী, তা-ও আবার দুই ভাই; তাই কাকে ভোট দেব ভেবে পাচ্ছি না।’ আবদুর রাজ্জাক নামের আরেক ভোটার বলেন, সব দলেই কমবেশি বিদ্রোহী থাকে। কিন্তু ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই বিদ্রোহী—এটা খুব একটা দেখা যায় না।
বড় ভাই জগলুল পাশা বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এ কারণে নির্বাচন করছেন। অন্যথায় ছোট ভাইয়ের জন্য তাঁর ছাড় দেওয়ার মনোভাব ছিল। তবে তিনি আশা করছেন, প্রত্যাহারের শেষ সময়ে ছোট ভাই মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন।
জাফরিন পাশা বলেন, গত নির্বাচনের সময় বড় ভাই বলেছিলেন, পরবর্তী নির্বাচনে এ পদ তাঁর জন্য ছেড়ে দেবেন। কিন্তু এখন নির্বাচনে বড় ভাই নিজেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ কারণে তিনি ভাইয়ের বিরুদ্ধে নেমেছেন। তিনি আশা করছেন, নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকবেন এবং জয়ী হবেন।
























