২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকায় অভিজাত এলাকা গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা মামলায় সাতজন জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে খালাস দিয়েছে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ।
মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ৭ আসামি হলেন-জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। সব আসামির মধ্যে কেউ পালতক নেই। আর অভিযুক্ত আরেক আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দিয়েছে আদালত
এর আগে আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে তাদেরকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।
২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই হামলার ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকার্য শুরু করা হয় । অভিযোগপত্রে আসামি ২১ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। ঘটনাস্থলে নিহত ৫ আসামিরা হলো, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো, হামলার প্রধান সমন্বয়কারী তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
বাকী ২১ জনের মধ্যে জীবিত ৮ জনের বিরুদ্ধে ৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ এই হামলার মামলায় ১১৩ জন সাক্ষী হাজির করেছে। প্রথম সাক্ষ্য দেন বাদী এসআই রিপন। এ বছরের ২৭ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে আজ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের বলেন, “এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি তবে মামলার রায় পর্যালোচনা করে খালাস পাওয়া আসামীর বিষয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত নিবেন।” অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা মনে করি সাক্ষ্যগুলো ডাউটলেস না এবং অনেক কন্ট্রাডিকশন আছে, অনেক ইনকসিসটেন্সি আছে, লেক অব কোলাবেরশন আছে। তাই আমরা এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করব ’’
এর আগে বিচার কার্য চলাকালীন বিচারক বলেন, সুনিশ্চিত ন্যায় বিচারে লক্ষে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য ঐ জঙ্গি হামলায় হত্যা করেছিলেন ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে, যাঁদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি।




















