করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ছুটির সঙ্গে নতুন কিছু নির্দেশনাও জারি করেছে সরকার।
জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, অফিস খুলে দেয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয়নি। ছুটিকালে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে শিল্প-কারখানা, কৃষি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো ও গণপরিবহন পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে।
এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সাধারণ ছুটি বাড়ানো হল। ছুটির সঙ্গে দেশবাসীর উদ্দেশে নানা নির্দেশনা রয়েছে।
এর আগে, ছুটির মেয়াদ ১ মে পর্যন্ত করার সুপারিশ করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় কমিটির সভাপতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন জাতীয় কমিটির সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।
তিনি জানান, সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি লিখিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। সাধারণ ছুটির সময় ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগ এবং জেলা, উপজেলা পর্যায়ে সরকারের ১৮টি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থা-বিভাগসমূহ সীমিত আকারে খোলা রাখা যাবে।
মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব কাজী মোহম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সাধারণ ছুটি চলাকালীন ঢাকাসহ সকল বিভাগ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিম্নবর্ণিত মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধিনস্ত দপ্তরসমূহ সীমিত পরিসরে খোলা রাখার জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হয়।’
অফিস খোলা থাকবে এমন কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়গুলো হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও পাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
অন্য সকল সরকারি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ এই সময়ে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। সরকার করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রথম দফায় গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দ্বিতীয় দফায় তা বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এবং তৃতীয় দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। সাপ্তাহিক ছুটি ও সাধারণ ছুটির ধারাবাহিকতায় আগামী ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল ও ৩ থেকে ৫ মে ২০২০ পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সাধারণ ছুটির সঙ্গে ১ ও ২ মে সাপ্তাহিক ছুটিও যোগ হবে।
























