সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে ‘হাইকোর্টের রায় সংবিধান পরিপন্থি’ বলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আদালত অবমাননা হয় কি না- সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বললেন, হাইকোর্টের রায় সংবিধান পরিপন্থি। এতে আদালত অবমাননা হচ্ছে না?
‘আমি তো মনে করি, আদালতের এটি বিবেচনা করা দরকার। আদালতের রায়কে যখন বলা হয়, সংবিধান পরিপন্থি, এর চেয়ে বড় আর কি বলা যাবে। এটি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’
বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রয়াত অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, ইসলামী মূল্যবোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার অবদান, জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে তার দল।
সংসদে পাস করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী হাইকোর্ট বাতিল করে দেওয়ার পর এখন সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মনে করেন বিএনপির এই নেতা। বিচারপতিদের অব্যাহতির ক্ষমতা সংসদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। যে সংশোধনীটি সম্প্রতি হাইকোর্ট ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে রায় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এরশাদের সময়ে আদালত সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন। তখন এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে থাকা বিরোধী রাজনৈতিক জোট (আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল) দাবি করেছিল, সংসদে পাস করা সরকারের কোনো আইন আদালত যখন বাতিল করে দেয়, তখন ওই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার থাকে না। আওয়ামী লীগও এতে একমত ছিল।
‘আমাদের সেই সময়ে বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে এখন ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়ার পর এই সরকারের কি হবে? পার্লামেন্টের রায় আদালত বাতিল করে দেওয়ায় তাদেরও তো আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার থাকে না।’
বর্তমান সরকারের শাসনামলে যেভাবে খুন, গুম, হত্যা এবং নেতাকর্মীদের কারাগারে নেওয়া হচ্ছে, তা স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।
সরকারের অত্যাচার চরম আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘অত্যাচার যত বেশি হয়, অত্যাচারীর পতন তত করুণ হয়। তবে দেশের স্বার্থে এই নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ হোক। কারণ সবশেষে দেশেরই ক্ষতি হয়। সেজন্য আমরা পরিবর্তন চাই। আর সেটি যেন হয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে।’
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিপলস লীগের মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান।
























