২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাংগুনিয়ার পদুয়ায় শীলক খালের ওপর আরসিসি সেতু স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, পদুয়া (রাংগুনিয়া) থেকে ফিরে:

সারাদেশে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের জোয়ার দ্রুত বৃদ্ধির এ সময়ে নাগকির সুবিধা বঞ্চিত রয়েছেন বান্দরবান সীমান্ত সংলগ্ন চট্টগ্রামের রাংগুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ ক্ষেত্রে চরমভাবে অবহেলিত এক হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ। বুধবার দুপুরে শীলক খালের ওপর একটি আরসিসি সেতু নির্মাণের দাবিতে এক সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এসব মানুষ। সেতুটি স্থাপিত হলে এসব বাসিন্দা পটিয়াসহ চট্টগ্রাম শহরের সাথে সরাসরি সকড়পথের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে।

এ মানববন্ধ কর্মসূচিতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদপ্রার্থী (বৈদ্যতিক পাখা প্রতীক) মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে এসব গ্রামবাসী অংশ নেন। পদুয়া ইউনিয়নের নাইচছাভিটাসহ ৬টি পাড়া/গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগের সম্মুখিন হন সেতু সমস্যার কারণে। শীলক খালের নাইচ্ছাভিটা নামক স্থানে প্রায় ১০০ফুট দৈর্ঘ্য একটি কাঠের সেতু স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মাণ করা হলেও প্রতিবছরের বর্ষায় বানের পানির স্রোতে বিধস্ত হয়ে পড়ে। প্রতিবছর ২/৩জন মানুষও এ কাঠেল নির্মিত সেতু পারাপাারের সময় অকালে মারা যায়। রাংগুনিয়া উপজেলা অঞ্চলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সরকারের উচ্চ মহলে বহুবার দাবি জানানো সত্বেও কাঠের সেতু ব্যবহারকারী প্রায় ১০ হাজার মানুষের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেনি। নজর বা খবরদারিও নেই জনপ্রতিনিধি,সমাজ নেতা এবং সরকারের উচ্চ মহলের কোন কর্তা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের। কেবল নির্বাচন আসলেই প্রার্থীরা এলাকায় এসে সেতু নিমৃাণসহ সব সমস্যার সমাধ কর াহবে বলে ঘোষণা দিয়ে চলে যান, কিন্তু বাস্তবে কোন পরিকল্পনা বা বাস্তবায়ন নেই।

নাগরিক অধিকার বঞ্চিত এক হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ এবং শিশু-কিশোর পদুয়া ইউনিয়নের নাইচ্ছাভিটা এলাকায় একটি আরসিসি সেতু নির্মাণের দাবিতে এক সমাবেশ করেছে বুধববার দুপুরে। সমাবেশ শেষে একই দাবিতে বিশাল মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ৯ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম, স্থানীয় বাসিন্দা আবু তৈয়ব,মোহাম্মদ নাছের,মো.নাজিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের জানান, শীলক খালের পশ্চিম পাড়ের ৬টি গ্রামের শত শত শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী এ ঝূুকিপুর্র্ণ কাঠের সেতু ব্যবহার করেই প্রতিদিন স্কুল ও মাদ্রায় যাতায়াত করে থাকে। গর্ভবতী মাসহ মুমুর্ষ রোগীদের পরিবহণও ঝূঁকিপূর্ণ ভাবে করতে হয়। সেতুর অভাবে অ্যাম্বুলেন্স, মৃত ব্যক্তির লাশ পরিবহণ ও স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌছাঁনো সম্ভব হয়না। ফলে হয়রানীর শিকার হতে হয় প্রায় ১০ হাজার মানুষকে। এসব গ্রামে বসবাস রয়েছে মুসলিম হিন্দু এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রায় ১০ হাজার মানুষ বা প্রায় ৪ হাজার পরিবার। এলাকাবাসী নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে নাইচ্ছাভিটা এলাকায় শীলক খালের ওপর আরসিসি সেতু স্থাপনের জন্যে সরকারের উচ্চ মহলে জোরালো দাবি তুলেছেন সুবিধা বঞ্চিত মানুষ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ