শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, মিয়ানমারের ঘটনা ১৯৭১ সালের কথা স্বরণ করিয়ে দেয়। মিয়ানমারের ঘটনা সব ধরণের মানবতাকে উপেক্ষা করেছে। এটিকে পুঁজি করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই।
রোববার দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের বাণিজ্যিক উৎপাদন উদ্বোধন উপলক্ষে নরসিংদীর পলাশে প্রতিষ্ঠানটির কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, মিয়ানমারের ঘটনার সঙ্গে দেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের মিল রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখলে মনে পড়ে ১৯৭১ সালের কথা। সে সময় পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদররা যেভাবে নির্যাতন করেছিল, মা-বোনের সম্ভ্রমহানিসহ ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল, গ্রাম-গঞ্জ পুড়িযে ছারখার করেছিল। তেমনি অবস্থা এখন মিয়ানমারে সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে মানবতাকে ভুলণ্ঠিত করে একদিনের শিশুকেও হত্যা থেকে রেহায় দেয়া হচ্ছে না। আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা নির্বিশেষে হত্যার শিকার হচ্ছে। যেভাবে নারীদের নির্যাতন করে হত্যা করা হচ্ছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এই ইস্যুকে পুঁজি করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ আয়তনে ছোট, জনসংখ্যা বেশি। এরপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা নির্যাতিতদের আশ্রয় দিচ্ছি। তাদের খাদ্য থেকে শুরু করে সবরকম সুযোগ-সুবিধায় কোনো কার্পণ্য করা হচ্ছে না।
রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে তাদের (নির্যাতিত রোহিঙ্গা) পূর্নবাসিত করা হোক। মিয়ানমারে তাদের পুর্নবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে আমু বলেন, আমরাও তো বলতে পারি আপনাদের নেত্রী লন্ডনে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না করে তিনি যদি মিয়ানমানের কথা বলতেন তাহলে আপনারা যেটা বলছেন, আপনাদের মুখে সেটা শোভা পেতো। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি আপনাদের নেত্রী লন্ডনে বসে এমন কোনো প্রচেষ্টা চালাননি, এমন কোনো বক্তব্য দেননি, যেটা মিয়ানমারের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে যায়।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, আপনারা সেটাকে সমালোচনা করছেন। এটা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটা অন্য একটি দেশের ঘটনা। এটা নিয়ে রাজনীতি হতে পারে না।
দেশবন্ধু গ্রুপের এমডি গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রুপটির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশারাফ খান, বর্তমান সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান, সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
























