১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মিরসরাইয়ে ভার্কের ব্যবস্থাপক-হিসাব রক্ষককে বেদড়ক নির্যাতনের অভিযোগ

ইলিয়াছ রিপন, মিরসরাই প্রতিনিধি :
ভার্কের ক্ষুদ্র ঋণের মিরসরাই শাখা ব্যবস্থাপক-হিসাব রক্ষককে বেদড়ক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন-মিরসরাই শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ রাজিবুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষক হারুন উর রশিদ। মঙ্গলবার রাতে মিরসরাই পৌর সদরের বাদামতলী এলাকায় ভার্কের ক্ষুদ্র ঋণ অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ খোদ প্রধান কার্যালয়ের ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
হামলার পর উল্টো থানায় অভিযোগ দিয়ে আহতদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হামলকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (১০ জানুয়ারী) সকালে মিরসরাই থানা পুলিশ ভার্কের মিরসরাই শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ রাজিবুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তানকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসেন এবং পরে ছেড়ে দেন।
ভার্কের মিরসরাই শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ রাজিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গত বছর বেতন ভাতা বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবীতে দেশব্যাপী আন্দোলন হয়েছিল। প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সেই থেকে ক্ষেপে আছেন। যদিও তখন সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন কিন্তু বিভিন্ন সময় চাকুরীচ্যুত করার হুমকি দিয়েছেন। ক্রমাগত হুমকিতে জিডি করার জন্য সম্প্রতি মিরসরাই থানায় গিয়েছিলাম। তখন ওসি সাহেব আমাদেরকে আশ^াস করেছিলেন কোনো প্রীতিকর ঘটনা ঘটলে যেন উনাকে অবগত করি।
মোঃ রাজিবুল ইসলাম আরো জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ভার্ক ঋণ কার্যক্রমের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খন্দকার হাসানুল বান্নার নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মুস্তাফিজুর রহমান রশিদ মৃধা, সোনাওগাও এরিয়ার সহ ঃ সমন্বয়কারী মোঃ ইলিয়াছ ও অজ্ঞাতনামা আরো এক কর্মকর্তা আসেন। কোনো কিছু না বলে আকস্মিক আমাকে ও হিসাবরক্ষক হারুন উর রশিদ বেঁধে রেখে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে। অমানবিক নির্যাতন করে। বর্তমানে দু’জনই শয্যাশায়ী। এছাড়াও আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রধান কার্যালয়ে বদলীর কাগজে সই এবং হিসাবরক্ষক থেকে ব্ল্যাঙ্ক চেকে সই নিয়ে নেয়। উল্টো হামলাকারীদের মিথ্যা অভিযোগে আমার স্ত্রী-সন্তানকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। উনাকে মিথ্যা অভিযোগ বুঝতে পেরে পুলিশ আমার স্ত্রীকে স্ব-সম্মানে ছেড়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভার্ক ঋণ কার্যক্রমের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খন্দকার হাসানুল বান্না বলেন, আর্থিক অনিয়মের কারণে আমরা মিরসরাই ব্রাঞ্চে গেলে মিরসরাই শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ রাজিবুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষক হারুন উর রশিদের সাথে বাকবিতন্ড হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তবে তার স্ত্রীর-সন্তানকে থানায় আটকের বিষয়টি জানি না। হয়তো বা তাকে না পেয়ে পুলিশ তার স্ত্রী সন্তানকে আটক করতে পারে। জোরপূর্বক কোনো কাগজে সই নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্কীকার করেছেন।
মিরসরাই থানার ওসি সাইরুল ইসলাম জানান, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে মিরসরাই শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ রাজিবুল ইসলাম এবং যোগসাজস আছে এমন বিষয় উল্লেখ করে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসেন ভার্কের হেড অফিসের কর্মকর্তারা। আমরা বলছি স্ত্রী যেহেতু অফিসে সম্পর্কিত কেউ না সেহেতু তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেওয়া যাবে না। ব্যবস্থাপকের স্ত্রীকে থানায় নিয়ে আসা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ওসি আরো বলেন, যদি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক শাখা ব্যবস্থাপক-হিসাব রক্ষক বেড়দক পিটুনীর শিকার হয় তাহলে উনারা বিচার চাইতে পারেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ