২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মিথ্যা ও হয়রানীমুলক মামলার সুষ্ট তদন্তপূর্বক সু-বিচার পেতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

১৯ডিসেম্বর রাত ৮ টায় পুলিশ পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় গৃহকর্তা আক্তার, স্ত্রী মিনা ও ছোট বোন পারুলকে। দু’টি মাইক্রোতে নিয়ে তাদেরকে ৪ ঘণ্টা বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ানোর পর আক্তারের স্ত্রী আসুস্থ হয়ে পড়লে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে তার প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে রাত ২ টার দিকে বারবাজার পুলিশ ফঁড়ির এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ফেরত দেন স্ত্রী ও বোনকে। কিন্তু আক্তারকে একটি মামলার জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে বলে জানায়।

এ ঘটনার ৭ দিন পর ২৬ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাড্ডা থানার সাঁতারকুল এলাকা থেকে মেট্রোপলিটন টেরোরিজন টিমের হাতে আক্তারকে আটক দেখিয়ে জেলে পাঠানো হয়। যার মামলা নং-৬০। মামলাটিতে হরকাতুল জেহাদের সদস্য ও রাষ্ট্র বিরোধী ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের অভিযোগে আক্তারকে ৬ নং আসামি করা হয়।

এমন অস্বাভাবিক ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কারীগঞ্জ উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় তার পরিবার সুষ্ট তদন্ত সহ দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে রেহায় পেতে গত ১৫ জানুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যার অনুলিপি স্বরাষ্টমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ সহ সাংবাদিকদের কাছেও তার অনুলিপির কপি প্রেরণ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

ভুক্তভোগী পরিবারটি অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করেছেন, যশোর সদর উপজেলার কনেজপুর গ্রামের মজিদ মন্ডলের ছেলে পুলিশ সদস্য মেহেদি হাসানের সাথে আক্তারদের পারিবারিক দ্বন্ধের আক্রোশে এমন মিথ্যা মামলা সহ বারবার হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

সর্বশেষ এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে সুষ্টতদন্ত ও বিচারের দাবীতে ঝনঝনিয়া গ্রামে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে ওই গ্রামের কয়েকশ নারী পুরুষ অংশ নেয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বর কামরুল জামান, শিক্ষক ইউনুচ আলী, আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী মিনা বেগম, ছোটবোন পারুল প্রমুখ।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী আক্তারের চাচা উপজেলার বারবাজার ঝনঝনিয়া গ্রামের ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানায়, গত ১৯ ডিসেম্বর রাত ৮ টার দিকে দু’টি মাইক্রোবাসে কিছু লোকজন আক্তারদের বাড়ীতে আসেন। তারা তার ভাইপো আক্তার ও তার স্ত্রী মিনা বেগম এবং ছোট বোন কামরুন্নাহার পারুল কে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি বাঁধা দিলে আগতরা নিজেদেরকে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে একটি মামলার জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর রাত ২ টার দিকে বারবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই তরিকুল ইসলাম স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ কামরুল ইসলামের মাধ্যমে আমাদেরকে বারবাজার মাছের আড়ৎতের সামনে আসতে বলে। তারা সেখানে পৌঁছানোর কিছু সময় পরই ওই মাইক্রো দুটি এসে পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই আক্তারের স্ত্রী ও ছোট বোনকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু আক্তারকে ফেরত না দিয়ে ০১৭১০-৭০৫২৫২ মোবাইল নং দিয়েই তারা চলে যায়। ওদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে আক্তারের স্ত্রী ও ছোট বোন পারুল তার পরিবারকে জানায়, তাদেরকে মাইক্রোবাসে করে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়। পুলিশ সদস্যদের সাথে ওই গাড়ীতেই পারুলের ডিভোর্সী স্বামী পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসানও উপস্থিত ছিল।

উল্লেখ্য কয়েক বছর আগে পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসান মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকায় পারুল তাকে ডিভোর্স দেয়। সেই ডিভোর্সের পর থেকেই মেহেদী আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দিবে বলে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ দ্বন্ধের জেরেই এর আর্গে ২০১৭ সালেও একবার আক্তারকে পুলিশ পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছিল।

সে মামলায় আক্তার ৯ মাস পর জেল থেকে জামিনে মুক্ত পান। এরপরও পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসান আমার ভাইপো আক্তার ও তার পরিবারকে পূর্বের ন্যায় হুমকি দিয়ে আসছিল। লিখিত অভিযোগে আরো জানায়, আক্তারকে বাড়ি থেকে তুলে নেবার দু’দিন পর তারা ০১৭১০-৭০৫২৫২ নং মোবাইলে ফোন দিলে অপর প্রান্ত থেকে এস আই আহসান হাবীব নামে পরিচয় দিয়ে জানায়, আটকের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নাই, পেলে জানাবো। এরপর আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ থানা, ঝিনাইদহ র‌্যাব, ডিবি ও খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে যোগাযোগ করেও আক্তারের কোনো খোঁজ পায়নি।

সর্বশেষ তারা স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজীম আনারের শরণাপন্ন হলে তিনি আমাদেরকে কালীগঞ্জ থানাতে জিডি করতে বলেন। এমপির পরামর্শে গত ২৫ ডিসেম্বর থানায় জিডি করতে গেলে ডিউটি কর্মকর্তা জিডিটি গ্রহণ করেননি। এর কয়দিন পর গত ২৬ ডিসেম্বর তারা সময় টেলিভিশন সংবাদে দেখতে পায় ঢাকার বাড্ডা থানার সাঁতারকুল এলাকা থেকে আক্তারকে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ খবর দেখেই তারা পরদিন ঢাকার বাড্ডা থানাতে গিয়ে জানতে পারেন, ওই মামলায় তাকে ষড়যন্ত্রমুলক হরকাতুল জেহাদ সংগঠনের সদস্য বলে আসামি করা হয়েছে। আক্তারের পরিবারের ভাষ্য বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবার ৭ দিন পর কীভাবে ঢাকাতে সে মামলার আসামি হল তা তাদের বোধগম্য হয়নি। মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানীমুলক। তারা সুষ্ট তদন্তপূর্বক সু-বিচার পেতে প্রশাসনের নিকট আবেদন জানিয়েছেন।

সর্বশেষ এ নিয়ে শুক্রবার গ্রামবাসীরা মানববন্ধন করেছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচাজ মাহফুজুর রহমান জানান, আক্তারকে আটক বা প্রশাসনের কোনো টিম নিয়ে গেছে তা তিনি জানেন না। তবে ঢাকায় একটি মামলায় আটক রয়েছেন বলে ওই পরিবারের স্বজনদের মুখে তিনি শুনেছেন বলেও জানান।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ