জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ধান কেটে ঘরে তোলার আগে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এতে পুরো খেতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সারা বছর কীভাবে চলবে, এই নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক কৃষককে ধান কাটার সময় মাঠে হাহাকার করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ছবিলাপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় কৃষক মুস্তফার সঙ্গে।
তিনি বলেন, সাড়ে তিন একর জমিতে বোরো ২৮ জাতের ধান রোপণ করেছেন। প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ করে ধান ঘরে তোলার আগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। পুরো খেতের ধানের শীর্ষে চিটা। তার মতো অনেক কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে।
কৃষক কামরুল ও রুবেল জানান, ঋণ করে এবার বোরো ২৮ জাতের ধান লাগিয়েছেন। উচ্চমূল্যে সার কীটনাশক ব্যবহার করে খেতে চিটা দেখা দেয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ঋণ পরিশোধের পর সারা বছরের খাবার জুটে এখান থেকে। তারা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. ইমরুল কায়েস বলেন, ১৯৯৪ সালে ধান গবেষণায় ব্রি ধান ২৮ অবমুক্ত হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর এই জাতটি কৃষকের চাহিদা পূরণ করে এসেছে। দীর্ঘদিন চাষাবাদের কারণে এখন ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ কারণে কৃষকদের নতুন জাত ব্রি ৮৮. ব্রি ৮৯ এবং ৯২ জাত আবাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কৃষি অফিস জানিয়েছেন, এ বছর মেলান্দহ উপজেলায় ২২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়।
























