২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হত্যা মামলা বহিষ্কৃত ইউপি চেয়ারম্যান কবীর শ্রীমঙ্গলে গ্রেফতার

চেয়ারম্যান পদের মায়া ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গিয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন। সেখানে গিয়ে ভোলাভালা লোক সেজে স্টেশনারি দোকান খুলে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, শেষরক্ষা হলো না তার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে রবিবার র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন মোবারক হত্যা মামলার আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান কবির আহমেদ।

গত ১২ এপ্রিল লকডাউন উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও থানাকান্দি গ্রামের সর্দার আবু কাউসার মোল্লার সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। কয়েক দফায় চলা ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে জিল্লুর রহমানের সমর্থক মোবারক মিয়ার এক পা কেটে নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গ্রামে আনন্দ মিছিল করেন আবু কাউসার মোল্লার সমর্থকরা। মিছিল থেকে পায়ের বদলে মাথা কেটে নিয়ে আসার কথাও বলা হয়। এছাড়াও সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার দুদিন পর নববর্ষের দিনে মোবারকের মৃত্যু হলে হত্যা মামলা দায়ের হয়। এই নৃশংস হত্যা মামলায় পাশের বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবীর আহমেদকেও পরবর্তীতে আসামি করা হয়। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ও সাবেক কৃষকদল নেতা।

র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার সোমেন মজুমদার জানান, আজ রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় দিকে খবর আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান এবং হত‍্যা মামলার আসামি মো. কবির আহমেদ শ্রীমঙ্গলে আত্মগোপন করে আছে। পরে র‍্যাব-৯ এর সদস্যরা গোপনে অভিযান পরিচালনাকালে জানতে পারেন মো. কবির আহমেদ নিজের পরিচয় গোপন রেখে শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানে তিনি একটি স্টেশনারি দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করছেন। পরে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সময় র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে কবীর আহমেদকে গ্রেফতার করে।

র‍্যাব-৯ এর কর্মকর্তা সোমেন মজুমদার আরও জানান, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর এককালীন ২৫০০ টাকা প্রদানের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশে ২৮ মে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ