২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ব্যাংকে জমা রাখা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না আমানতকারীরা

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংকে জমা রাখা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না আমানতকারীরা। ব্যাংকটির শাখাগুলোতে টাকা তুলতে প্রতিদিন ভিড় করছেন গ্রাহকেরা, আর তাদের হতাশ করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অনেককে পে-অর্ডার দিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে ব্যাংকের তহবিলে টাকা না থাকায় পে-অর্ডারও বাউন্স হচ্ছে। টাকা ফেরত পেতে অনেক গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির আমানতকারীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে, ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করার দায়ে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীমকে অপসারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। অপসারণের পাশাপাশি এ কে এম শামীমকে আগামী তিন বছর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় অপসারিত এমডি ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুত্রে জানা গেছে, ফারমার্স ব্যাংকের আমানতের চেয়ে ঋণ বেশি হয়ে গেছে। এ কারণে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না। গত দুই মাসে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা।

ইতোমধ্যে মধ্যে ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর ফারমার্সের গুলশান, মতিঝিল ও গাজীপুরের মাওনা শাখাসহ আরও বেশ কয়েকটি শাখায় বিশেষ পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে ব্যাংকটির আরও বড় ধরনের কিছু অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি শাখার ব্যবস্থাপককে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস- এর প্রেসিডেন্ট ড. আরিফুর রহমান রেডিও তেহরানকে বলেন, অর্থিক খাতের রক্ত সঞ্চালক হচ্ছে ব্যাংক। সেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তা গোটা অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে ফেলার আশংকা থাকে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯ ব্যাংকের একটি ফারমার্স ব্যাংক। অনুমোদন পাওয়ার আগেই সাইনবোর্ড লাগিয়ে দপ্তর খুলে নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছিল ব্যাংকটি। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর পর বছর না ঘুরতেই ঋণ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে নতুন এই ব্যাংক, যার ভুক্তভোগী এখন সাধারণ আমানতকারীরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন ফারমারর্স ব্যাংকের জন্য বিশেষ কর্মসূচি বা স্কিমের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ কর্মসূচি নেয়া হলে গ্রাহকের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দিতে পারবে ব্যাংকটি। এ জন্য পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

ওদিকে, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত মন্তব্য করেছেন, দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ব্যাংকের আর্থিক হিসাবে সমস্যা রয়েছে। ঠিকমতো হিসাবপত্র করলে দেশের অর্ধেক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ