ফার্নেস অয়েলের পর এবার জ্বালানি তেলের দামও কমাচ্ছে সরকার। আগামী সপ্তাহে দাম কমানোর প্রজ্ঞাপন হতে পারে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।
জ্বালানির তেলের দাম কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি কালকে হয়তো লিখিত নির্দেশনা দিয়ে দেব।”
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা তেলের দাম কমাতে যাচ্ছি। সবগুলোর দাম কমবে। ধাপে ধাপে কমবে। দুই থেকে তিন ধাপে কমবে।”
ধাপে ধাপে কমানোর কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আগে দেখেতে চাচ্ছি ১০ টাকা বা পাঁচ টাকা যদি কমানো হয় তাহলে বাজার কী রকম আচরণ করে।”
বিশ্ববাজারে গত দেড় বছর ধরে তেলের দরপতন চলার কারণে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানির দাম কমানোর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পক্ষে মত দেন। তবে আগের ভর্তুকির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের লোকসান সমন্বয় করতে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
তবে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী জানান, কয়েক বছরে জ্বালানি তেলের লাভ থেকে সরকারের আগের লোকসান প্রায় পুরোটাই সমন্বয় হয়েছে।
এর কয়েকদিন পর গত বৃহস্পতিবার ফার্নেস অয়েলের দাম কমায় সরকার। প্রতি লিটার ৬০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪২ টাকা করা হয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের সময় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই হারে বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রল ৯৬ টাকা, কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলে তাদের লাভ হচ্ছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ লাভ কমপক্ষে ২৯ টাকা।
অন্যদিকে অকটেনে বিপিসির হিসাবে লাভ হচ্ছে ২২ টাকা, বিশেষজ্ঞদের হিসাবে লাভ হচ্ছে ৫২ টাকা। এ ছাড়া প্রতি লিটার পেট্রলে অফিসিয়াল লাভ ২১ টাকা দেখানো হলেও বাস্তবে লাভ হচ্ছে ৪৪ টাকা।
























