১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহালে সন্তোষ প্রকাশ করেলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ সর্বোচ্চ আদালতের রিভিউ আবেদনেও বহাল থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন । তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একাত্তরের বদরপ্রধান নিজামী এখন কেবল নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। এ বিষয়টির নিষ্পত্তি হলেই সরকার দণ্ড কার্যকর করবে।

বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি একথা বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দিনক্ষণ ঠিক করবে সরকার। আর  তা কার্যকর করবেন কারা কর্তৃপক্ষ।নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে দায়ের করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আগামী ৫ মে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একই বেঞ্চ।

গত ৩ মে মঙ্গলবার সকাল থেকে নিজামীর খালাস চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে, মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। মাঝে আধা ঘণ্টার বিরতি দিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৫ মে দিন ধার্য করে আদেশ দেন। গত ১০ এপ্রিল নিজামীর রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) শুনানির জন্য ৩ মে নির্ধারণ করেন আদালত। গত ৩ মে মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেন। নির্ধারিত দিনে আজ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এর আগে গত ২৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার আইনজীবীরা রিভিউ আবেদন করেন। রিভিউতে ৭০ পৃষ্ঠার মূল  আবেদনের সঙ্গে মোট ২২৯ পৃষ্ঠার নথিপত্রে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৬টি (গ্রাইন্ড) যুক্তি তুলে ধরা হয়।

পরের দিন ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ নিজামীর রিভিউ আবেদন দ্রুত শুনানির জন্য দিন ধার্যে আবেদন দাখিল করে। গত ১০ এপ্রিল বিষয়টি ৩ মে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। গত ৬ জানুয়ারি বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনাকারী ও উস্কানি দেয়াসহ তিন অপরাধের দায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। গত ১৫ মার্চ আপিল মামলাটির ১৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন করার পর রাতেই বিচারিক আদালতে গেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এর পর পরই মৃত্যু পরোয়ানাসহ পূর্ণাঙ্গ রায় কেন্দ্রীয় কারাগারসহ স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসক) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠায়।

গত ১৬ মার্চ সকালে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর কনডেম সেলে নিজামীকে মৃত্যু পরোয়ানা ও পূর্ণাঙ্গ রায় শোনানো হয়। এর আগে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীর মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।তার আগে ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার এক মামলায় নিজামীকে আটক করা হয়। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জেলে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ