২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রতারক আইনজীবী।

চট্টগ্রামে অভিনব কায়দায় এক বিচার প্রার্থী নারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তার ৩২,০০,০০০/- (বত্রিশ লক্ষ) টাকা ও সম্ভ্রম হাতিয়ে নিলেন এক প্রতারক আইনজীবী। ঐ প্রতারক আইনজীবীর নাম এড. আজিজুল হক আদিল, সে চট্টগ্রাম জেলা আদালতে প্র্যাকটিস করেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিতে তার পরিচিতি লিন নং-২০০১০৩১৪৩২। নগরীর পাঁচলাইশ থানাস্থ হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা ভূক্তভোগী ঐ নারী এই ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেন। যার নং-সি.আর.-৭৮০/১৯ইং (পাঁচলাইশ থানা) বিজ্ঞ আদালত মামলাটি সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পি.বি.আই.কে. নির্দেশ প্রদান করেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায় ভুক্তভোগী ঐ নারী ২০১৭ইং সালের দিতে তার প্রাক্তন স্বামী মোঃ মেহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও পরিচালনার জন্য তিনি ঐ আইনজীবীকে নিয়োগ করেন।

উক্ত সম্পর্কের সুবাদে ঐ আইনজীবী সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভূগি ভিকটিমের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়তে চেষ্টা করলে সে উক্ত বিষয়ে এড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে ঐ প্রতারক আইনজীবী আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়ে এবং বিগত ২১/৬/২০১৮ইং তারিখে তার নিজের হাতে লেখা একটি প্রেমপত্রও ভিকটিমকে দেয়। উক্ত আইনজীবী ভিকটিমকে বিবাহ করে স্ত্রীর মর্যাদাসহ যাবতীয় দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। কিন্তু ভিকটিম তাতে বাধা দেয় এবং আগে বিবাহ সম্পন্ন করার জন্য বলে। এই কারণে ঐ প্রতারক বিগত ২৮/০৬/২০১৮ইং তারিখ বেলা ২.০০টায় তার কোর্টস্থ বসার স্থান মূল মিলনায়তনে এক ব্যক্তি সহায়তায় প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহের কাবিননামা সৃজনের অভিনয় করে একটি নীল রংয়ের কাগজে ভিকটিমের একটি স্বাক্ষর নেয়। পরে ঐ ব্যক্তি চলে যাওয়ার পর ভিকটিম জিজ্ঞাসা করলে ঐ আইনজীবী জানায় যে, এটি বিবাহের কাবিনামা ছিল এবং এখন থেকে আমরা বৈধ স্বামী-স্ত্রী হয়ে গেছি। ঐ দিন বিকালে ঐ আইনজীবী ভিকটিমকে গরীব উল্লাহ শাহ মাজারেও নিয়া যায় এবং একজন হুজুরের সামনে দোয়াও পাঠ করেন। ঐ সময় ভিকটিম তার চলমান মামলা সম্পর্কে বিজ্ঞাসা করলে ঐ আইনজীবী বলে যে, ঐসব নিয়ে তুমি কোন চিন্তা করো না। আমি ল’য়ার আছি সব কিছু ঠিক করে দেব। এইভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ঐ আইনজীবী ভিকটিমের মনে স্বামীর ন্যায় বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং তার স্থানীয় চেম্বার পাঁচলাইশ থানাস্থ আনোয়ার মঞ্জিলে অবস্থিত চেম্বারের পাশে রুম সহ বিভিন্ন স্থানে সে ভিকটিমের সাথে ক্রামাগত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কারণে এক পর্যায়ে ভিকটিম কনসিভ করে। এই বিষয়টি ঐ আইনজীবীকে জানালে সে ভিকটিমের ভ্রুনস্থ বাচ্ছাটি ধনড়ৎঃরড়হ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ভিকটিম তাতে রাজী না হলে এক পর্যায়ে ঐ আইনজীবী তাকে বলে যে, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নেয়ার পর আমরা বাচ্ছা নিব। এই বলে সে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তার ঐ স্থানীয় চেম্বারে একটি ঔষধ খাওয়ায়। তখন ভিকটিম খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার ভ্রুনস্থ বাচ্ছাটি নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু এটি ভিকটিমের ২য় বিবাহ তাই সে সংসার টিকানোর স্বার্থে ঐ প্রতারক আইনজীবীর কথায় কাউকে কিছু না জানিয়ে চুপ থাকে। এক পর্যায়ে ভিকটিম বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঐ আইনজীবী ভিকটিমকে স্থানীয় ডাক্তারের নিকট নিয়ে যায় এবং চিকিৎসা করায়।

এরই মধ্যে ভিকটিম ঐ আইনজীবীকে বার বার আনুষ্ঠানিকভাবে তার ঘরে উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বললে সে বিভিন্ন তাল বাহানা দিতে থাকে এবং আস্তে আস্তে ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে ভিকটিম নিরূপায় ও বাধ্য হয়ে কোর্টে ঐ আইনজীবীর চেম্বারে এসে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নিতে বললে তখন ঐ আইনজীবী ভিকটিমের সাথে স্থাপিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও লেনদেনসহ যাবতীয় সম্পর্ক অস্বীকার করে এবং বিয়ের বিষয়টিও অস্বীকার করে। তখন তার কথা শুনে ভিকটিম হতভম্ব হয়ে পড়ে। ঐ সময়ে ঐ প্রতারক আইনজীবী তার ভাড়া করা মহিলা সন্ত্রাসী দ্বারা ঐ স্থানে ভিকটিমকে আক্রমণ করলে উপস্থিত আইনজীবীরা সকলকে আইনজীবী সমিতির অফিসে নিয়ে যায়। সমিতির অফিসে তাৎক্ষণিক সকলের বক্তব্য শুনার পর পুরো বিষয়টি সকলে অবগত হন এবং ঐ প্রতারক আইনজীবীর প্রতারণার বিষয়টি সকলের সামনে আসে। তখন ভিকটিমকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বললে সে লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে উক্ত বিষয়ে কোন সমাধান না হওয়ায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ভিকটিমকে লিখিতভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করলে ভিকটিম নিরূপায় হয়ে বিজ্ঞ আদালতে উল্লেখিত মামলাটি দায়ের করেন।

ঐ আইনজীবী নিজের প্রতারণা ঢাকতে ভিকটিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও কল্প কাহিনী সৃজন করে হয়রানির কুউদ্দেশ্যে বিজ্ঞ আদালতে বিগত ২৯/১০/২০১৯ইং তারিখে সি.আর. মামলা নং-২৫০৯/১৯ইং (কোতোয়ালী থানা) দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত উক্ত মামলা পি.বি.আই. কে. তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

এছাড়াও ঐ প্রতারক আইনজীবী ভিকটিমের পূর্বের স্বামী থেকে আদালতের মাধ্যমে প্রাপ্ত মোহরানা বাবাদ ২৩,০০,০০০/-(তেইশ লক্ষ) টাকা সহ মোট ৩২,০০,০০০/-(বত্রিশ লক্ষ) টাকা হাওলাদের কথা বলে আত্মসাৎ করেন। বর্তমানে ঐ প্রতারক আইনজীবী নিজেও বিভিন্ন অপরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারা ভিকটিমের প্রাণ নাশেরও হুমকী দিয়ে যাচ্ছেন এবং রাজনৈতিকপ্রভাব খাটিয়েও অর্থ ব্যয় করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বশে আনার অপচেষ্টায় রয়েছেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ