বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে আরো উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু।
আবহাওয়া অধিদফতদরের রোয়ানু সিরিজের সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ডপলার রাডার ইকো ও আবহাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, উপকূল অতিক্রমরত ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আরো উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের কাছ দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করেছে এবং বৃষ্টি ঝড়িয়ে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় এই বিশেষ বুলেটিন দেয় আবহাওয়া অধিদফতর।
বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেয়া রোয়ানু শনিবার দুপুরে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে। এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার থেকেই সারাদেশে বৃষ্টিপাত হয়েছে।
রোয়ানুর ছোবলে লন্ডভন্ড হওয়া দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ৮২ হাজার ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গৃহহারা হয়েছে ২৩ হাজার পরিবার। জেলাগুলোতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এই প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের নিজ বাড়িতে ফিরতে রোববার দুপুর নাগাদ অপেক্ষা করতে হবে।শনিবার বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু অতিক্রম করেছে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারতের ত্রিপুরায় গিয়েছে এ ঝড়টি।
ঝড়ের তাণ্ডবে হওয়া ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহম্মদ শীর্ষ নিউজকে জানান, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় ৮২ হাজার ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ২৩ হাজার ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ও ৫৯ হাজার ঘর-বাড়ি আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে জানতে আরো ১০ দিনের মতো সময় লাগবে বলে জানান তিনি।বাংলাদেশ সীমানা অতিক্রম করায় রোয়ানু’র শঙ্কা থেকে মুক্ত হয়েছে উপকূলবাসী। তবে, নিম্নচাপের কারণে ঝড়ো বাতাস বইবে উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রামে ১২, ভোলায় ৪, ফেনীতে ১, কক্সবাজারে ৪, লক্ষ্মীপুরে ১, পটুয়াখালীতে ১ ও নোয়াখালীতে ৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। কয়েক শত ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর এসেছে। স্থল নিম্নচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের ফেনী, সীতাকুণ্ড ও খাগড়াছড়ি এবং ভারতের ত্রিপুরা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের পর আগামীকালের এইচএসসি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। তবে সামান্য বৃষ্টিপাত ও শীতল হাওয়া ছাড়া রাজধানী ঢাকায় রোয়ানুর দৃশ্যমান কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি।ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম, মংলা, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল তা নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাবধানে চলতে বলা হয়েছে।
























