২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তারেক-জোবাইদাকে আদালতে হাজির হতে গেজেট

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রাণালয় থেকে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) এ গেজেট প্রকাশ করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান। দুদকের কোর্ট পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বিষিয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে, গত ১ নভেম্বর তারেক ও জোবাইদার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের পর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান ৫ জানুয়ারি তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

গত ১৯ জানুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি আসামি তারেক ও জোবাইদার কোনো মালপত্র পাননি বলে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তাদের আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে ৬ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা করে দুদক। মামলায় তারেক রহমান, ডা. জোবাইদা রহমান ও তার মা ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়। ওই বছরই তারেক ও জোবাইদার পৃথক তিনটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করে হাইকোর্ট। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ওই রুল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় দুদক। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত জুন মাসে হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পরই তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত আদালতের আদেশ তামিলের জন্য বলা হয়। এরপরই পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। ওই প্রতিবেদন পেয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিলো।

বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। এরপর থেকেই তিনি গত ১৪ বছর ধরে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন। এ সময়ের মধ্যে তারেক রহমান একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ তিনটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। এই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১।

এছাড়া দণ্ডিত হওয়া বাকি দুটি মামলা হলো দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের দায়েরকৃত। এসব মামলায় বিচারের শুরু থেকেই তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার আদালতগুলো।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ