আগামী নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলনে নামে বিএনপি। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি, দলীয়প্রধানসহ দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু করে দলটি।
গত রমজানে মাঠপর্যায়ে আন্দোলন চালিয়ে যায় বিএনপি, যা দেশের বিএনপির ইতিহাসে প্রথম। তবে সমাবেশ, মানববন্ধন, গণপদযাত্রা, গণঅবস্থানসহ গত ছয় মাসের কর্মসূচিতে ভিন্নতা থাকলেও জনসংযোগ বাড়ানো ছাড়া বিএনপির অর্জন হয়নি কোনো কিছুই।
তাই এবার নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টায় বিএনপি। ঢাকামুখী লংমার্চের কথা ভাবছে দলটির শীর্ষ নেতারা। সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে আন্দোলন কঠোর করার কৌশল হিসেবে ঢাকামুখী কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিচ্ছে দলটি। নেতারা জানান, ঈদের পর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লংমার্চ করে ঢাকায় আসা, দেশের কয়েকশ’ স্থানে একই সময়ে অবস্থান ও বিভাগীয় শহরে অবস্থানের ঘোষণা আসতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকে সফলতার দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, প্রয়োজন হলে সে সিদ্ধান্তই নেয়া হবে।
বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমরা ঢাকা থেকে বাইরে যেতে পারি, ঢাকার দিকে আসতে পারি। এমন কোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নেই যা আমরা করব না। লংমার্চ হতে পারে, শর্টমার্চ হতে পারে আবার এক জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি হতে পারে।
এদিকে বিএনপির এ আন্দোলনের কর্মসূচিকে বাগাড়ম্বর জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, জনভীতি তৈরি চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে। তাদের দাবি, আস্থার সংকট প্রকট বলেই বিএনপি জনসম্পৃক্ততা তৈরিতে ব্যর্থ।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের বাইরে যদি তাদের পদচারণা হয়, সেটা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। এখন যে বাকসন্ত্রাস বিএনপি করছে, সেটার মাধ্যমে তারা জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে না পারলেও তারা জনভীতি তৈরি করেছে।
আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিএনপিই ধ্বংস করেছে। তাই অবিশ্বাস অনাস্থা থেকে জনগণ বিএনপির আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, আওয়ামী লীগ যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে; তার আগের পটভূমি কী। বিএনপি সংবিধান সংশোধন করেছে, বিচারপতিদের বয়স বৃদ্ধি করেছে। এ বিএনপির ওপর মানুষের আস্থা নেই।
আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, মানুষও আন্দোলনের ব্যাপারে একটু বীতশ্রদ্ধ হয়ে আছে। বিভিন্ন পরিবর্তন এ দেশে হয়েছে। কিন্তু সে পরিবর্তনগুলো তাদের জীবনকে মসৃণ করেনি।
























