৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নদী ভাঙনের কবলে বরুলিয়াবাসী, ঘরবাড়ি ও জমিজমা বিলীন

আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহঃ
খরস্রোতা গড়াই নদীর পাড় ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বরুলিয়া গ্রাম।এ বছর বর্ষার পানি বাড়তেই আবার শুরু হয়েছে ভাঙনের ভয়াল রূপ। এখন ভরা বর্ষায় থেমে নেই গড়াইয়ের বিমূর্তরূপ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে গ্রামের অর্ধেক মানুষের জমি-জমা ও বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার জমিজমা হারিয়ে এখন প্রায় নিঃস্ব। বরুলিয়া গ্রামে জনসংখ্যা বাস করে ১৫০০ জনের মত। বরুলিয়া গ্রাম হতে কেশনগর মসজিদ পযর্ন্ত প্রায় দেড় কি:মি: রাস্তা রয়েছে। তবে সরজমিনে এখন রাস্তার কোন লেশ মাত্র নেই। নদীর পানি যতই কমছে ততই নদী ভাঙন আরো কঠোর রুপ নিচ্ছে।এ ভাবে চলতে খাকলে গ্রামের সম্পূর্ন অংশই নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা জাগছে। এলাকার মানুষ চরম আকারে আতংকের মধ্যে দিনপাত করছে।
বরুলিয়া গ্রামের নদী পাড়ের বাসীন্দা ফিরোজ জানান, আমরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে আমি টয়লেটে যাব এমতাবস্থায় দেখি টিউবওয়েল সহ পাশে থাকা ল্যাটটিন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।এখন আমাদের বসত ভিটা কখন নদী গর্ভে চলে যায় সেই চিন্তায় অস্থির আছি। ইতো মধ্যে আমার ৩ বিঘা জমি নদী গর্ভে। পাট,ধান,সবজির ক্ষেত সহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
বরুলিয়া গ্রামের নদী পাড়ের বাসীন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র আসাদ অভিযোগ করে বলেন, আমরা শুনতে পাড়ি প্রায় আমাদের নদী ভাঙন রোধের জন্য বরাদ্দ আসে কিন্তু আমরা পাই না।তিনি আরো বলেন,নদী ভাঙন রোধে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার মত কাজ আসে কে বা কারা সব অর্থই খেয়ে ফেলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ গড়াই নদীর দুই পাড়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতিহিংসার শিকারে অমিমাংসীত থেকে গেছে নানা উদ্যোগ। নদীর এপার-ওপার মানুষের মাঝে চর দখল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এমনকি মারামারির ঘটনাও কম ঘটেনি। অপরদিকে বেড়েই চলেছে নদী ভাঙন। গৃহহীন ভোক্তভোগীরা গভীর করে ড্রেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাঙন বন্ধ, স্পার্কিং ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক টি-চ্যানেল নির্মাণ করে নদী ভাঙ্গন রোধ করা যাবে।
ঝিনাইদহ পাউবো নির্বাহী আব্দুল লতিফ জানান, দ্রুত গড়াই নদীতে টি চ্যানেল তৈরি, স্পার্কিং ও গভীর ড্রেজার প্রকল্পের মাধ্যমে পানির গতিপথ ঘুরিয়ে দিলে এ সমস্যার সমাধান হবে। তবে ভাঙনরোধ করে বাড়িঘর ও কৃষিজমি রক্ষায় জরুরী প্রকল্প দিয়ে বরাদ্দের চেষ্টা করা হচ্ছে
স্থানীয়দের দাবী স্থায়ীভাবে গড়াই নদীর ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে খুব শীঘ্রই জিকে সেচখালসহ আশপাশের আরো কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। নদী ভাঙন রোধে সরকার যেন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে ও অচিরেই যেন এ সমস্যার সমাধান করে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ